প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন ৩

নিউ মিডিয়া ও নেটাগরিকের উত্থান

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কলকাতায় আজও আছে ‘নিউ মার্কেট’। এই শহরগুলোতে পরে আরও কত শপিংমল, মেগামল তৈরি হয়েছে, তবু নিউ মার্কেট এখনো ‘নিউ’। অথচ নতুন বউ বেশি দিন নতুন থাকে না, নতুন মোবাইল কয়েক মাসেই পুরনো হয়ে যায়, ‘নতুন প্রজন্ম’ও একসময় পুরনোদের দলে নাম লেখায়। প্রতি বছর আসে ‘নিউ ইয়ার’, মহামারীর সময় ‘নিউ নরমাল’ও একসময় একেবারে স্বাভাবিক হয়ে গেল। পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত পুরনো হয়ে যায় ‘নতুন’ শব্দটি; অথচ মানুষ সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয় এই শব্দেই। তাই প্রশ্ন জাগে—নিউ মিডিয়া কতদিন ‘নিউ’ থাকবে?

আসলে ‘নিউ’ শব্দটি এখানে কেবল সময়ের নয়, পরিবর্তনের প্রতীক। যে মাধ্যম প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলায়, যোগাযোগের ধরনকে নতুন আঙ্গিকে হাজির করে, তথ্যকে মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়—সেই মাধ্যমই নিউ মিডিয়া। একসময় রেডিও ছিল বিস্ময়, টেলিভিশন ছিল আধুনিকতার চূড়া; আজ সামাজিক মাধ্যম, ওয়েবসাইট, ইউটিউব, পডকাস্ট, ব্লগ কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম সেই জায়গা দখল করেছে। তাত্ত্বিকভাবে, নিউ মিডিয়া বলতে এমন ডিজিটাল ও ইন্টারঅ্যাকটিভ যোগাযোগ মাধ্যমকে বোঝায়, যা ইন্টারনেট ও কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর এবং যেখানে ব্যবহারকারী কেবল তথ্য গ্রহণকারী নয়, বরং তথ্যের নির্মাতা, পরিবেশক ও অংশগ্রহণকারীও। মিডিয়া তাত্ত্বিক লেভ ম্যানোভিচের ভাষায়, নিউ মিডিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— ডিজিটালাইজেশন, ইন্টারঅ্যাকটিভিটি, হাইপারটেক্সচুয়ালিটি এবং ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কভিত্তিক যোগাযোগ।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ওই নূতনের কেতন উড়ে, কালবৈশাখীর ঝড়’—অর্থাৎ নতুনের আগমন কখনো নিছক পরিবর্তন নয়, বরং এক ধরনের আলোড়ন, ভাঙাগড়া আর নবযাত্রার ঘোষণা। নিউ মিডিয়াও ঠিক তেমনই। যোগাযোগ সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের নাম। এখানে দর্শক শুধু দর্শক থাকে না, পাঠকও কেবল পাঠক নয়—প্রত্যেকে হয়ে ওঠে অংশগ্রহণকারী, নির্মাতা ও প্রচারক। সংবাদ এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের আঙুলের স্পর্শে। নিউ মিডিয়া যত পুরনোই হোক, তার ভেতরে প্রতিনিয়ত উড়তে থাকে ‘নূতনের কেতন’। পরিবর্তনের সেই নিরবচ্ছিন্ন ঝড়ই তাকে বারবার নতুন করে তোলে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে এক নতুন প্রজন্ম—‘নেটাগরিক’; যারা একই সঙ্গে নাগরিক এবং নেটওয়ার্কভিত্তিক মানুষ। তাদের চিন্তা, সম্পর্ক, মতামত ও পরিচয় ক্রমে গড়ে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভেতরে।

কিন্তু এই নিউ মিডিয়ার ডিজিটাল বাস্তবতা যতটা স্বাধীন মনে হয়, ততটা কি সত্যিই স্বাধীন? আমরা যা দেখি, যেভাবে উত্তেজিত হই, যেসব বিষয়ে রাগান্বিত বা আবেগপ্রবণ হই—তার অনেকটাই এখন নির্ধারণ করে অদৃশ্য অ্যালগরিদম। নিউজফিড, রিল, রিকমেন্ডেশন সিস্টেম ও ভাইরাল কনটেন্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে—অ্যালগরিদমের বাংলাদেশে। সেখানে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন সমাজ, এক নতুন সংস্কৃতি এবং এক নতুন মানুষ—নেটাগরিক। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি ডিজিটাল সমাজ থেকে অ্যালগরিদমিক সমাজে রূপ নিচ্ছে। এখানে মানুষ কেবল তথ্য গ্রহণ করে না; তথ্যের দ্বারা নির্মিতও হয়। এই বাস্তবতায় জন্ম নিয়েছে এক নতুন প্রজন্ম—নেটাগরিকের প্রজন্ম—যারা ইতিহাসের সবচেয়ে সংযুক্ত মানুষ, কিন্তু একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নজরদারিকৃত, সবচেয়ে বেশি অ্যালগরিদমনির্ভর এবং সম্ভবত সবচেয়ে বেশি মনোযোগ-সংকটে আক্রান্ত প্রজন্মও।

নিউ মিডিয়া তাই এক নতুন সামাজিক বাস্তবতা। হাতে স্মার্টফোন মানেই যেন একেকজন মানুষ নিজেই একটি ক্ষুদ্র মিডিয়া, আবার একই সঙ্গে অ্যালগরিদমের ভেতরে আটকে থাকা এক নেটাগরিকও। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ ও ২০০০ সালের শুরুর সময়টা ছিল ডিজিটাল আশাবাদের যুগ। তখন মনে হয়েছিল, ইন্টারনেট বুঝি সত্যিই তথ্যকে গণতান্ত্রিক করবে। ব্লগ হয়ে উঠেছিল নতুন প্রজন্মের ব্যক্তিগত ছাপাখানা—যেখানে সম্পাদক নেই, সেন্সর নেই, আছে শুধু মত প্রকাশের স্বাধীনতা। বাংলা ব্লগে তরুণরা রাজনীতি, ধর্ম, সাহিত্য ও সমাজ নিয়ে নির্ভয়ে লিখতে শুরু করল। এরপর ২০১০ সালের আরব বসন্ত এবং বাংলাদেশে শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণ হলো ফেসবুক-টুইটার শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, রাষ্ট্র কাঁপানো রাজনৈতিক শক্তিও হতে পারে। কিন্তু ক্ষমতা কখনো নীরব দর্শক হয়ে থাকে না। খুব দ্রুত ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল হয়ে উঠল নজরদারির যুগ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো মানুষকে পোস্ট দেওয়ার আগেই ভাবতে বাধ্য করল—‘এটা লিখলে ঝামেলা হবে না তো?’ ফলে যে নিউ মিডিয়া একসময় মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিই ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতার আরেকটি পর্দায় পরিণত হতে শুরু করল। বর্তমান সময় আরও জটিল। ২০২২ সালের পর কেবল রাষ্ট্র নয়—অ্যালগরিদমও মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব কিংবা ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি যে তারা ব্যবহারকারীকে যত বেশি সময় সম্ভব স্ক্রিনে ধরে রাখতে চায়। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে আছে এটেনশন ইকনমি—মনোযোগ অর্থনীতি। আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তেল নয়, সোনা নয়, এমনকি তথ্যও নয়—সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ মানুষের মনোযোগ। কারণ মনোযোগ মানেই বিজ্ঞাপন, আর বিজ্ঞাপন মানেই মুনাফা। ফলে অ্যালগরিদম এমন কনটেন্ট সামনে আনে যা সবচেয়ে বেশি আবেগ তৈরি করতে পারে। রাগ, ভয়, উত্তেজনা, চমক, যৌনতা, বিভাজন—সবকিছুই বেশি এনগেজমেন্ট তৈরি করে। চিন্তার চেয়ে প্রতিক্রিয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মিডিয়া তাত্ত্বিক ক্রিস্টিয়ান ফুকস দেখিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারী আর ভোক্তামাত্র নয়, বরং তারা নিজেরাই পণ্য। বাংলাদেশের তরুণরা যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করে, তখন তারা অজান্তেই ডিজিটাল শ্রম দিচ্ছে। তাদের সময়, তথ্য, আচরণ, আবেগ—সবকিছুই করপোরেট প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য মূল্যবান ডেটায় পরিণত হচ্ছে। আমরা ভাবি আমরা ফেসবুক ব্যবহার করছি, বাস্তবে ফেসবুকই আমাদের ব্যবহার করছে। এই ডিজিটাল পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—এটা মানুষকে আনন্দের মধ্য দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যবহারকারী মনে করে সে বিনোদিত হচ্ছে, অথচ একই সঙ্গে তার আচরণ বিশ্লেষণ, পূর্বানুমানও প্রভাবিত করা হচ্ছে।

বিরোধাভাস হলো এত সংযুক্তির পরও বর্তমান প্রজন্মের ভেতরে এক ধরনের নিঃসঙ্গতা বাড়ছে। একই ঘরে বসেও মানুষ একে অপরের দিকে তাকায় না। পরিবারে কথোপকথন কমছে। বন্ধুত্বের গভীরতা কমছে। জীবনানন্দ দাশের ‘উটের গ্রীবার মতো নিস্তব্ধতা’ আজকের ডিজিটাল বাস্তবতায় নতুন অর্থ পেয়েছে। স্ক্রিনের আলোয় মানুষ দৃশ্যত ব্যস্ত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিঃসঙ্গ। চারপাশে শব্দ আছে, কনটেন্ট আছে, ভাইরাল বিনোদন আছে কিন্তু গভীর সংলাপ কমে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে সামাজিক সম্পর্কগুলোও খণ্ডিত হয়ে পড়ছে। পাড়া-মহল্লার আড্ডা, পরিবারের দীর্ঘ আলাপ, বই নিয়ে তর্ক এসব জায়গা দখল করে নিচ্ছে ক্ষণস্থায়ী ভিডিও আর দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি। ফলে মানুষের আবেগও হয়ে উঠছে দ্রুত উৎপাদিত এবং দ্রুত বিস্মৃতিযোগ্য।

বাংলাদেশে এখন ১৩ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন এবং কম দামের ডেটা প্রযুক্তিকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। কয়েক বছর আগেও যেটি ছিল শহুরে মধ্যবিত্তের সুবিধা, সেটি এখন গ্রামগঞ্জের তরুণদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। কিন্তু প্রযুক্তির এই দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি হয়নি সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতি। ডিজিটাল প্রবেশ ঘটেছে, কিন্তু ডিজিটাল সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। এই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো মিডিয়া সাক্ষরতার অভাব। বাংলাদেশের অধিকাংশ স্কুল-কলেজে এখনো মিডিয়া লিটারেসি বা ডিজিটাল সচেতনতা পাঠ্যক্রমের অংশ নয়। পরিবারও প্রযুক্তিকে বেশিরভাগ সময় কেবল ‘ডিভাইস’ হিসেবে দেখে, এর সাংস্কৃতিক ও মানসিক প্রভাব নিয়ে ভাবতে শেখেনি। ফলে একজন কিশোর কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে, কীভাবে তার রাজনৈতিক মতো তৈরি হচ্ছে, কোন অ্যালগরিদম তার আবেগকে প্রভাবিত করছে এসব নিয়ে সামাজিক আলোচনাই খুব সীমিত। অথচ বাস্তবতা হলো, বর্তমান প্রজন্ম তাদের আত্মপরিচয়, সামাজিক বোধ, এমনকি ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ধারণাও গড়ে তুলছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্য দিয়ে। এই জায়গাটিই আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে প্রযুক্তি কি কেবল একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম? নাকি এটি নিজেই একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক শক্তি?

অ্যালগরিদম কখনোই নিরপেক্ষ নয়। এটি ঠিক করে দেয় কোন খবর আপনি আগে দেখবেন, কোন ভিডিও আপনাকে বেশি সময় আটকে রাখবে, এমনকি কোন আবেগ আপনার ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী হবে। ধীরে ধীরে মানুষ নিজের পছন্দে নয়, অ্যালগরিদমের সাজানো বাস্তবতায় বাস করতে শুরু করে। আজকের তরুণদের বড় বাস্তবতা হলো ফোমো অনলাইনে না থাকলে মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে। নোটিফিকেশন, ভাইরাল ট্রেন্ড, অটোপ্লে ভিডিও সবকিছু এমনভাবে তৈরি, যাতে মানুষ বারবার ফিরে আসে। ফলে অনলাইন উপস্থিতি এখন সামাজিক অস্তিত্বের অংশ হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় সমাধান প্রযুক্তি বর্জনে নয়; বরং প্রযুক্তিকে বোঝায়। তাই প্রয়োজন মিডিয়া সাক্ষরতা, স্ক্রিন সচেতনতা এবং অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি। কারণ যে সমাজ তার মনোযোগ হারায়, সে সমাজ ধীরে ধীরে তার চিন্তার ক্ষমতাও হারায়।

গ্রিক পুরাণের তাইরেসিয়াস ছিলেন অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা; চোখে দেখতে পেতেন না, কিন্তু সত্য বুঝতে পারতেন। মহাভারতের ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন অন্ধ রাজা; তিনি দেখতে না পাওয়ার চেয়ে বেশি ভুগতেন সত্যকে না দেখতে চাওয়ার অসুখে। আবার গ্রিক ট্র্যাজেডির রাজা ইদিপাস নিজের ভয়াবহ সত্য জানার পর নিজেই নিজের চোখ উপড়ে ফেলেছিলেন কারণ কখনো কখনো ‘নির্মম সত্য’ দেখার চেয়ে অন্ধ হয়ে থাকাকেই সহজ মনে করেন জ্ঞানী লোকেরা। নিউ মিডিয়ার যুগে এসে আমরা যেন এই তিন চরিত্রেরই এক অদ্ভুত মিশ্রণ। সারাক্ষণ স্ক্রিনের আলোয় ডুবে থেকেও আমরা অনেক সময় তাইরেসিয়াসের মতো গভীর সত্য দেখতে পারি না, ধৃতরাষ্ট্রের মতো সুবিধাজনক অন্ধত্বে আশ্রয় নিই, আবার ইদিপাসের মতো কিছু সত্য জেনেও না জানার ভান করি। বাংলাদেশেও নিউ মিডিয়ার শুরুটা ছিল আশার ব্লগ, ফেসবুক, ইউটিউব তরুণদের মনে বিশ্বাস জাগিয়েছিল যে এবার সবাই নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বোঝা গেল, অ্যালগরিদমও এক ধরনের অদৃশ্য ‘সঞ্জয়’; সে-ই ঠিক করে দেয় আমরা কী দেখব, কী শুনব, কী নিয়ে উত্তেজিত হব। ফলে প্রশ্নটা এখন শুধু প্রযুক্তির নয়; প্রশ্ন হলো এত তথ্য আর আলোর ভিড়ে আমরা সত্যিই কতটা দেখতে শিখছি?

তাই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা প্রযুক্তির নয়, মানুষের। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসব তো নিছক যন্ত্র; আসল বিষয়, এই যন্ত্রের সামনে বসে থাকা মানুষটি কী করছে। সে কি কেবল আঙুল চালিয়ে স্ক্রল করছে, নাকি মাথাটাকেও একটু স্ক্রল করাচ্ছে? কারণ নিউ মিডিয়া একই সঙ্গে মুক্তির জানালা, আবার বিভ্রমের আয়নাও। এখানে কেউ সত্য খুঁজে পায়, কেউ সারাদিন বিড়ালের ভিডিও দেখে জীবন পার করে দেয়। তবু আশার কথা, বাংলাদেশের তরুণরা এখনো নতুন পথ বানাচ্ছে পডকাস্টে, বিকল্প সাংবাদিকতায়, স্বাধীন কনটেন্টে। হয়তো এ কারণেই রবীন্দ্রনাথের সেই ডাক আজও এত প্রাসঙ্গিক শোনায় ‘মোর চিত্তমাঝে, চির-নূতনেরে দিল ডাক।’ আসলে ‘চির-নূতন’ মানে কেবল ‘নতুন অ্যাপ’ নয়, নতুন চিন্তা; কেবল নতুন ডিভাইস নয়, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। প্রযুক্তি তখনই সত্যিকার অর্থে নতুন হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষকে আরও মানুষ হতে শেখায়। নইলে নিউ মিডিয়াও একদিন পুরনো পত্রিকার মতোই শুধু মোড়ক পাল্টানো ইতিহাস হয়ে যাবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত