থালাপতি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০১:২৩ এএম

দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে বাজিমাত করেছে অভিনেতা থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে)। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় গত ৪ মে ফল প্রকাশের পর রাজ্যটিতে সরকার গঠন নিয়ে নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে গতকাল রবিবার তামিলনাড়–র মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টিভিকে প্রেসিডেন্ট চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়ের শপথ গ্রহণ সব জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনেছে। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথন আর্লেকার তাকে শপথ পড়ান। এ সময় মঞ্চে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন।

এবারের নির্বাচনে টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে নিয়েছিল। তবে সরকার গঠনে ন্যূনতম ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য জোট সঙ্গী খুঁজতে হয়েছে দলটিকে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ৫, ভিসিকে ২; সিপিআই, সিপিআই (এম) ও আইইউএমএল-এর দুজন করে বিধায়ক সমর্থন দিলে সরকার গড়তে গভর্নরের সবুজ সঙ্কেত পান বিজয়। এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য বিজয়কে কয়েকদিন ধরে একাধিকবার গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছে। বিজয়ের সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার আরও ৯ সদস্যও শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এআইএডিএমকের সাবেক নেতা কেএ সেনগোতাইয়ানও আছেন; যিনি দীর্ঘদিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রন ও জয়ললিতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

প্রাথমিক এ মন্ত্রিসভায় আরও স্থান পেয়েছেন আধাভ অর্জুনা, নির্মল কুমার, টিভিকের সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ, রাজ মোহন, ড. টিকে প্রভু, অরুন রাজ, পি ভেঙ্কটারমন ও এস কীর্তনা। পরে জোটসঙ্গীদের ভেতর থেকেও বিজয় কয়েকজনকে তার মন্ত্রিসভায় স্থান দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুতে প্রায় ৬০ বছরের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শাসনের অবসান ঘটল। এবারের নির্বাচনে দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (এআইডিএমকে) যথাক্রমে ৫৯ ও ৪৭টি আসন জিতেছে।

এদিকে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন থালাপতি বিজয়। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশে ফাইলে স্বাক্ষর করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বিজয় তার প্রথম স্বাক্ষরিত ফাইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। এছাড়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ‘বিশেষ বাহিনী’ গঠনের নথিতেও সই করেন তিনি। রাজ্যে মাদকের বিস্তার রোধে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘অ্যান্টি-ড্রাগ ইউনিট’ বা মাদকবিরোধী ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছেন নতুন এই মুখ্যমন্ত্রী।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন বিজয়। তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যের আর্থিক অবস্থার ওপর একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে। বিজয় বলেন, ‘ডিএমকে সরকার আমাদের জন্য ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণ রেখে গেছে। পূর্ববর্তী সরকার ঠিক কত টাকা ঋণ রেখে গেছে এবং আমার ওপর কতটা বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে, তা আমি আপনাদের সবাইকে জানাতে চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত