কোনো দলের নয়, আইন অনুযায়ী চলবে পুলিশ

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০১:২৪ এএম

কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল রবিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেড’ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইজিপি আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) আওলাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পুলিশের সাফল্য মানে সরকারেরও সাফল্য। যে কোনো বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এ মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যায়, তখন আপনারা অবশ্যই তাদের সহায়তায় আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। পুলিশ সদস্যদের দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সে অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সে বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।

পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। তাই, কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউজ ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে বিভিন্ন অপরাধের পাশাপাশি মাদক ও অনলাইন জুয়ার ব্যাপারেও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অপরাধসহ মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালাতে হবে।

সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। পুলিশের প্রতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি কিংবা পুলিশে নিয়োগে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকেই আমরা প্রাধান্য দিতে চাই। পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সর্বোপরি চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে আপনাদের সব প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হব না। আমরা একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপারসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত