নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণ আতঙ্ক, বাড়ছে হতাহত

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

গ্যাস লিকেজ, অসাবধানতা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটসহ নানাবিধ কারণে বাড়ছে বিস্ফোরণ। আর একের পর এক বিস্ফোরণে হতাহত হচ্ছে মানুষ, নিভে যাচ্ছে জীবন প্রদীপ। আতঙ্কে দিন কাটছে নগরবাসীর। ফায়ার সার্ভিস বলছে, সচেতনতা বাড়লেই এসব দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব। তবে সাধারণ মানুষ তিতাস গ্যাসের পুরনো লাইন সংস্কারে গাফিলতি এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করছেন।

জানা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জে নেই কোনো বার্ন ইনস্টিটিউট। বিস্ফোরণে দগ্ধ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার পরিবর্তে জ্যাম ঠেলে নিতে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্থানীয় দুটি সরকারি হাসপাতালে নেই দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নগরবাসীর দাবি জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইনস্টিটিউট স্থাপনের।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ৬ শতাধিক, আর এসব দুর্ঘটনায়  প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ।

গতকাল সোমবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। সকাল ৬টার দিকে শওকত আলী গাজীর মালিকানাধীন ভাড়াটিয়া আব্দুল কাদিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গত ১০ মে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় একটি বসতবাড়িতে রান্নাঘরের গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন লেগে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, অসাবধানতার কারণেই এসব বিস্ফোরণের ঘটনা বেশি ঘটছে। এ ছাড়া গ্যাস লাইনগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় গ্যাস লিকেজ থেকেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এসব বিস্ফোরণে অনেক মানুষ প্রাণ হারান। একমাত্র সতর্কতাই পারে এ সমস্যার সমাধান করতে।’ এ বিষয়ে জানতে তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত