মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে যাচ্ছে লেখক-বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার কবর। মৃত্যুর প্রায় পঁচিশ বছর পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) তার কবর স্থানান্তরের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লেখকের পরিবারের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির ১৪তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংস্থাটির সমাজকল্যাণ বিভাগ কবরটি মিরপুর সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী কবর স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করেছে। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র মো. জোবায়ের হোসেন দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহমদ ছফা ছিলেন সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠ, আদর্শনিষ্ঠ ও প্রগতিশীল একজন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আহমদ শরীফের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লেখক শিবির গড়তে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। মুক্ত-স্বাধীন স্বদেশভূমিতে প্রগতির তরুণ সৈনিকদের অভ্যুদয় ছফার কাক্সিক্ষত ছিল। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদসহ অনেক লেখকের প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে আহমদ ছফার হাত ধরে। বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। ২০০১ সালের ২৮ জুলাই তিনি মারা যান। সেই সময় তাকে মিরপুর সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার কবর নম্বর-১০৮০।
ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি লেখক আহমদ ছফার কবরটি মিরপুর সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরে তার পরিবারের পক্ষে ভ্রাতুষ্পুত্র নুরুল আনোয়ার একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনের বিষয়টি গত ১৩ এপ্রিল করপোরেশন সভায় আলোচনা হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে করা ওই আবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি, সমাজসেবা প্রতিটি ক্ষেত্রে লেখক আহমদ ছফার অবদান রয়েছে। কিন্তু আহমদ ছফাকে এ পর্যন্ত সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এ সম্মান প্রদর্শনের জন্য তার কবরটি সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
বাংলাপিডিয়ায় আহমদ ছফা সম্পর্কে বলা হয়েছে, আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১) প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। চট্টগ্রামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের লেখাপড়া সমাপ্ত করে আহমদ ছফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
আহমদ ছফা ছিলেন তীক্ষè মেধার অধিকারী একজন সৃষ্টিশীল লেখক। ষাটের দশকে তার সাহিত্যজীবনের সূচনা হয়। সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে তিনি একজন সফল লেখক হিসেবে পরিচিত। জীবনের বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি গল্প-উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনায় কাজে লাগিয়েছেন। তার আখ্যানমূলক রচনায় বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা, মুক্তিকামনা ও স্বাধীনতাস্পৃহা এবং সামাজিক অসঙ্গতি ও বৈষম্যের চিত্র রূপায়িত হয়েছে।
