ঢাকা মহানগরের সড়কে শৃঙ্খলা আনতে স্বয়ংক্রিয় মামলার দিকে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে পূর্ণাঙ্গরূপে স্বয়ংক্রিয় মামলা চালু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, এতে সার্জেন্ট বা ট্রাফিক পরিদর্শকদের ম্যানুয়াল মামলা খুব একটা করা লাগবে না। যেকোনো স্থানে ট্রাফিক আইন বা মোটর ট্রান্সপোর্ট আইন ভাঙলে স্বয়ংক্রিয় মামলা হবে।
গতকাল সোমবার বিমানবন্দর ক্রসিং সৌরশক্তির ‘ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট’ উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সিটি করপোরেশন গত কয়েক মাসে জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সাতটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে। এ ছাড়া গুলশান-১ নম্বরে আগে থেকেই ছিল, আর গুলশান-২ নম্বরেও সিটি করপোরেশন সিগন্যাল লাইন স্থাপন করেছে। এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ৬টা পয়েন্টে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে চালু হবে। এর বাইরে ১৫টি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে ডিএমপি। পরে সিটি করপোরেশন ঢাকা মহানগরে আরও অনেক ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করবে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ঢাকার ৩০ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা বা অটোমেটিক মামলা করা শুরু করেছি গত সপ্তাহ থেকে। এই সফটওয়্যারটি আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করে কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল অ্যাপস ও মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে, সে অনুযায়ী তারা জরিমানা পরিশোধ করবে। বিভিন্ন পয়েন্টে সিগন্যাল লাইটের পোলগুলোতে পর্যায়ক্রমে এই ‘এআই বেজড সিসি ক্যামেরা’ স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহে ৩ শতাধিক মামলা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়তো ১ হাজার মামলা হবে। ২০২২ সাল থেকে অনেকেই ট্রাফিক ফাইন পরিশোধ করছিল না, এমন প্রায় ১ লাখ মামলা পুলিশের কাছে পড়ে ছিল জানিয়ে বলেন, ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরও ৩৮ হাজার এমন মামলা প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, সড়কে গতি আনতে ঢাকার প্রায় ৭০টি স্থানের কোথাও ইউটার্ন, কোথাও রাইট টার্ন বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার গড় গতিবেগ ছিল ৫ কিলোমিটারের নিচে, কিন্তু ’২৫-’২৬ সালে ঢাকা মহানগরের গাড়ির গড় গতিবেগ এখন ১০ কিলোমিটারের ওপরে হয়ে গেছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা বসিয়ে মামলা করার ফলে ওভার স্পিড কমেছে। সে অনুযায়ী ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতেও ক্যামেরা বসিয়ে ‘ডিজিটালি কন্ট্রোল’ করা হবে। ঢাকা শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খলা ছিল, সেটা থেকে শৃঙ্খলা আনতে হলে একটু সময় লাগবে। ধীরে ধীরে সব সেক্টরেই হস্তক্ষেপ করে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ভালো করা হবে।
