দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৮:২২ এএম

শিক্ষক আন্দোলন কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পদোন্নতি জটিলতা নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এদিকে পবিপ্রবিতে উপাচার্য অপসারণ দাবিতে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় শিক্ষকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। বহিরাগতদের হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ না পৌঁছানোর অভিযোগও আন্দোলনকারীদের।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। এরপর দুপুরের দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এলেও কোনো ক্লাস হয়নি।

এর আগে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও সব শিক্ষক পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ধীমান কুমার রায় বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাকে প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত প্রক্টরসহ তিনজন পদত্যাগ করেছেন।’

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচিকে আইনবিরোধী আখ্যা দিয়ে উপাচার্য তৌফিক আলম বলেন, ‘আপনারা নিজেরা কর্মবিরতি করতে পারেন, অন্যের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে পারেন না। এটা সরাসরি আইনবিরুদ্ধ কাজ। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন, তা না হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

জানা গেছে, ববিতে প্রায় ৬০ জন শিক্ষক পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। গত ৩০ এপ্রিল বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সভায় পদোন্নতির বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ৮ মে রাতে হঠাৎ নোটিস দিয়ে ৯ মে সকালে এজেন্ডাবিহীন জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। তাদের দাবি, ওই সভায় সংকট সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন।

এদিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৮ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন এবং কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক-কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা বলেন, এ সময় ভিসির সমর্থনে দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব রিপন শরিফের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, রিপন শরিফের নেতৃত্বে আসা বহিরাগতরা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি।’ বহিরাগতদের হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত