টেকনিক আর স্নায়ুর লড়াইয়ে একটি পূর্ণ দিন কীভাবে রং বদলাতে পারে, তার এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম দুই সেশন স্বাগতিকদের দখলে থাকলেও, দিনের শেষ ভাগে এসে চিত্রটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বোলারদের স্বর্গ হয়ে ওঠা উইকেটে শেষ সেশনে সাজিদ-আলীদের স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ৬৩ রানের ব্যবধানে ক্যারিবীয়দের ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে চালকের আসনে বসেছে পাকিস্তান।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৪০ ওভার ৫ বলে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১০৩ রান। এতে তাদের লিড এই মুহূর্তে ৬০ রানের। এর আগে ব্যাটিংয়ে শফিক-বাবদের ব্যাটের চড়ে দারুণ কিছুর আভাস দিলেও মিডল অর্ডারে ব্যাটিং বিপর্যয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসের ৩৮৭ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ৩৪৪ রান।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন বড় জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল পাকিস্তান। আবদুল্লাহ শফিকের অনবদ্য ১৫০ রানের ইনিংস, বাবর আজমের ৮৮ এবং শেষ দিকে সাজিদ খানের (৩০) কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ পার করে পাকিস্তান। শফিক একদিকে যেমন দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে উইকেটে টিকে ছিলেন, অন্যদিকে সাজিদ ও উসমানের সঙ্গে তার লোয়ার-অর্ডারের জুটিগুলো লিড বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে থাকে।
তবে এরপরই শুরু হয় নাটকীয় পতন। জোয়েল ওয়ারিকানের স্পিন জাদুতে কয়েক রানের ব্যবধানে শেষ উইকেটগুলো হারিয়ে পাকিস্তানও দ্রুত অলআউট হয়ে যায়। ওয়ারিকান একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট, যার মধ্যে শেষ ৪ বলে তুলেছেন ৩ উইকেট। সেখানে ক্যারিবীয় শিবিরকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনছে বলে মনে হয়েছিল।
কিন্তু আসল রূপ বদলায় ম্যাচের শেষ ঘণ্টায়। ৪৭ রান পিছিয়ে থেকে যখন স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটে নামে তখন নতুন বল হাতে মোহাম্মদ আলী খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, স্পিন আক্রমণ আসতেই পিচ জীবন্ত হয়ে ওঠে। শাজিদ ও আলী উসমানের স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। একে একে সাজঘরে ফেরেন তাজনারিন চন্দারপল, আমির জাঙ্গু, কাভেম হিজ ও শাই হোপদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররা। দিনের একেবারে শেষ বলে রস্টন চেজ উসমানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে পাকিস্তানের পূর্ণাঙ্গ আধিপত্য নিশ্চিত হয়।
কেবল ৬০ রানের নামমাত্র লিড নিয়ে উইন্ডিজ শিবির এখন কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে। হাতে আছে কেবল ৪ উইকেট আর বাকি এখনো দুই দিন। চতুর্থ দিনে নাটকীয় কোনো সমীকরণ না আসলে ম্যাচ এখন অনেকটাই বাবর-সালমানদের দখলেই।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইলের’ অভিযোগ সাবেক ফিফা সহ-সভাপতির 