সারের ডিলারশিপ নীতিমালা বাতিল চান খুচরা বিক্রেতারা

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সারের খুচরা বিক্রেতারা। খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. ফোরকান উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। এতে সারা দেশ থেকে আগত কয়েকশ সারের খুচরা বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২০২৫ সালের নীতিমালা অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু আমলা একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে অংশীদারদের মতামত না নিয়ে তাড়াহুড়া করে এই নীতিমালা প্রণয়ন করেন। এটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যমান ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা বেকার হয়ে যাবে। যাদের পরিবার নিয়ে সংকটের মধ্যে পড়তে হবে।

এজন্য সারের এসব খুচরা বিক্রেতা নীতিমালাটি বাতিল বা স্থগিত করে সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতাদের কার্যক্রম বহাল রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে এই নীতিমালাকে জনস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে সব অংশীদারের মতামত নিয়ে নতুন করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি করা হয়। তা না হলে সারা দেশব্যাপী সব সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতা কৃষকদের কাছে সার বিক্রয় ও সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন বলে ঘোষণা দেন। জানা গেছে, নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী সারের ডিলাররাই খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করবে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব খুচরা বিক্রেতা ডিলারদের কাছ থেকে সার নিয়ে বিক্রি করছিল তাদের আর কোনো কার্যক্রম নেই। এ কারণে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আন্দোলন করে আসছিল বিক্রেতারা। তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চলমান বোরো মৌসুমে যাতে অস্থিরতা তৈরি না হয় এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয় খুচরা বিক্রেতাদের কার্যক্রম ৩১ মে পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে। এর পর থেকে আর বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং বিভাগ থেকে গত ২৬ এপ্রিল এক পরিপত্রে এই সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর আগে কৃষি মন্ত্রণালয় খুচরা বিক্রেতাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছিল।

এদিকে মানববন্ধন থেকে খুচরা বিক্রেতারা দাবি না মানলে বড় আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. ফোরকান উদ্দিন বলেন, একপেশে এই নীতিমালা স্থগিত করে পরবর্তী সময়ে সরকার এটিকে যুগোপযোগী করতে পারে। এর জন্য সব ধরনের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর আগে যখন নীতিমালা করা হয়েছিল তখন অংশীজন কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, সার সরবরাহে এই যে সারা দেশের ৪৪ হাজার বিক্রেতা দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছে, তাদের কথা সরকারকে মাথায় রাখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত