সিন্ডিকেট রুখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিত্যপণ্যের মজুদ তৈরি করা হবে

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৌশলগত মজুদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।

গতকাল সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।

অনুষ্ঠানে টিসিবি জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত মোট দশ দিন। যেখানে এক জন ক্রেতা প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে দুই লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকা দরে এক কেজি চিনি ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। গত রোজার ঈদের আগে ট্রাকসেলে প্রতি লিটার তেল ১১৫ টাকায় বিক্রি করেছিল টিসিবি।

বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু বড় ব্যবসায়ী এ খাতে সক্রিয় থাকেন। তবে, সরকার এমন একটি অংশীদারত্বভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেন আরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে অংশ নিতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এই সরকার জনগণের পক্ষে বাজারব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য বাজার হবে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল এবং কারসাজিমুক্ত।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে, গত বছরের ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বলেন, পূর্ববর্তী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

জানা গেছে, এ দফায় সারা দেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ১০ দিন পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করবে টিসিবি। প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জন সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি হবে। টিসিবি প্রতিদিন ঢাকা মহানগরে ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরে ২০টি, অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬ জেলায় ১০টি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত