কোণঠাসা স্টারমার, হুমকির মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছেন কিয়ার স্টারমার। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অন্তত ৮০জন সংসদ সদস্য তার পদত্যাগ দাবি করেছেন অথবা কবে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন তার সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাদের এসব দাবি নাকচ করে দিয়েছেন স্টারমার।  

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচন হয়। এতে কিয়ার স্টারমারের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বিপর্যয় হয়। এরপরই দলীয় প্রধান হিসেবে স্টারমারের ওপর চাপ বাড়ে। এখন তার বিরুদ্ধে মন্ত্রীরাই সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদ এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, পদত্যাগের জন্য তিনি যেন একটি সময়সীমা ঠিক করার ব্যাপারে ভাবেন।

অপর সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট্টে কুপার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, তিনি যেন সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করেন।

এদিকে মঙ্গলবার স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে একে একে তিন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জেস ফিলিপস, ডিভল্যুশন, ফেইথ অ্যান্ড কমিউনিটিজ বিষয়ক মন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ এবং নারী ও কন্যাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ ও ভিকটিমস বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস জোন্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ফানবুলে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে (কিয়ার স্টারমার) অনুরোধ করছি, যেন তিনি দেশ ও দলের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন এবং একটি সুশৃঙ্খল উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করেন।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা বা ক্যাবিনেট হলো সরকারের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রায় ২০ জন মন্ত্রীর দল, যাদের প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত খাত পরিচালনার দায়িত্ব দেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্য, পরিবহন, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও রয়েছে।

স্টারমারের মন্ত্রিসভার উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।

তবে সংকটের মধ্যেও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রকাশ্যে স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ দিন দিন বাড়লেও সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি স্টারমার। বরং স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, তিনি সরকার পরিচালনা চালিয়ে যাবেন। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার রাজনৈতিক অস্থিরতা সরকার ও দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে।

মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মানুষ সরকারের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। তাদের এখন মূল কাজ হওয়া উচিত, সরকার পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত