ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন, উদ্ধার ১৫৭ জন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে একটি অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন লাগার পর অন্তত ১৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্ধারকারী দল। মঙ্গলবার (৪ জুলাই)এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। সূত্র বিবিসি। 

ফ্রান্সের চ্যানেল ও উত্তর সাগর অঞ্চলের সামুদ্রিক প্রশাসন জানিয়েছে, নৌকাটি সোমবার রাতে ফ্রান্স থেকে ছেড়ে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। মঙ্গলবার সকালে চ্যানেল অতিক্রমের সময় নৌকাটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১৫৭ জনকে ফ্রান্সের বুলোন-সুর-মের বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ফরাসি সামুদ্রিক প্রশাসনের ভাষ্য, রাতে নৌকাটির পাঁচ আরোহীকে উদ্ধার করা প্রয়োজন হলেও অন্যরা ফরাসি টহল নৌকার সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর দৃঢ় ইচ্ছার কারণে তারা কেবল চরম জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার সহায়তা গ্রহণে রাজি হন।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ছোট এসব নৌকার কাঠামো অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় তখন জোর করে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়নি। তবে মঙ্গলবার সকালে ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর নৌকাটির কাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলে তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

উদ্ধার অভিযানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজ অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্যের আরএনএলআই ইস্টবোর্ন লাইফবোট এবং ইউকে বর্ডার ফোর্সের দুটি জাহাজ। ফরাসি দুটি নৌযান ১০৩ জন এবং ব্রিটিশ নৌযান ৫৪ জনকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া সবাইকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য বুলোন-সুর-মেরে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের কোস্টগার্ড জানায়, ফরাসি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অঞ্চলে একটি নৌকায় আগুন লাগার পর ব্রিটিশ জাহাজ ও একটি লাইফবোট উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে।

এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ছোট নৌকায় করে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকানো নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

সোমবার ডোভার সফরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন কমাতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ এ সমস্যার সমাধান চায়।

তিনি জানান, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে ইংলিশ চ্যানেলের উভয় পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনপথ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে লেবার সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। আর রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় গেলে অভিবাসীবাহী নৌকা ঠেকাতে নৌবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত