মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেট যান নাহিদ রানা। উইকেটে গিয়েই পাকিস্তান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। একজন বোলারকে পেয়ে যেন বাউন্সারের ঝুড়ি খুলে দেন শাহিন। এর মধ্যে একটি বাউন্সার গিয়ে আঘাত হানে নাহিদের হেলমেটে। দুই পেসারের মধ্যে লড়াই জমবে, তখনই আন্দাজ করা গিয়েছিল। হয়েছেও তাই, শাহিনকে উইকেটে পেয়ে গোলা ছুড়েছেন নাহিদও। প্রথম ইনিংসে বেশ কয়েকটি বাউন্সার থেকে বাঁচলেও দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় পেসারের বাউন্সারেই আউট হন শাহিন। এ দুজনের লড়াইটা উপভোগ করেছেন দুই দলের ক্রিকেটারই। মিরপুরে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, পাকিস্তানও জানত বাউন্সার দিলে বাউন্সার খেতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, সেখানকার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন : ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য পেলে পাকিস্তান জয়ের জন্য খেলবে, আগা সালমানের এমন মন্তব্য সম্পর্কে জানতেন?
নাজমুল হোসেন শান্ত : না।
প্রশ্ন : নাহিদ রানার শেষ স্পেলটা কতটা উপভোগ করেছেন?
শান্ত : না, নাহিদের কথা বলার আগে আমি একটু তাসকিনের কথা বলব। তাসকিন শুরুটা দিয়েছিল, চা বিরতির পরে যেভাবে বোলিং করেছে, ওই চার-পাঁচ ওভারের স্পেলটা মোমেন্টাম এনে দিয়েছে, এরপর নাহিদ রানা। আমরা জানি নাহিদ কত স্পেশাল এবং কত জোরে বোলিং করে এবং তার সঙ্গে স্কিলটাও ধীরে ধীরে ডেভেলপ করছে। তো অনেক উপভোগ করেছি। প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল, এটা দেখতেও ভালো লাগে। তো খুবই খুশি ও যেভাবে নিয়মিত দলের জন্য অবদান রাখছে। ইচ্ছা থাকবে যে, ও নিয়মিত দলের জন্য অবদান রাখবে।
প্রশ্ন : প্রথম ইনিংসে নাহিদ রানাকে অনেক বাউন্সার করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, একটি হেলমেটে লাগে। পরে নাহিদও তাকে বাউন্সার করেছেন। এই লড়াইটা কতটা উপভোগ করেছেন?
শান্ত : ওরাও জানত রানাকে বাউন্সার মারলে বাউন্সার খেতে হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই ভালো লাগে। কী বলব, বাংলা ভাষায় যদি বলি যে, জবাবটা দিতে পারি। তো এটা একটা ভালো দিক। আমাদেরও এ রকম বোলিং স্ট্রেন্থ এখন আছে। এই জিনিসগুলো ভালো দল হয়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আশা করব যে, সবাই ওরা সবাই এরকমভাবে সুস্থ থাকবে এবং এই চ্যালেঞ্জগুলো ব্যাটসম্যানদের দেবে।
প্রশ্ন : ইনিংস ঘোষণার সময় ভাবনায় কী কাজ করছিল? শেষের দিকে পেস নাকি স্পিনের ওপর ভরসা রাখতে চেয়েছেন?
শান্ত : আমার মনে হয়, ব্যাটিংয়ে আমরা সকাল থেকে পরিষ্কার ছিলাম আমরা কী করতে চাই। সত্যি বলতে আরও ১৫-২০ রান করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কিছু সময়ে এ রকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি। টেস্ট দলটা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে, ওপরের দিকে যাচ্ছে। তো আমরা একটু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আমাদের সাহায্য করবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কারণ হলো, আমাদের যে বোলিং আক্রমণ আছে, যে পাঁচ বোলার নিয়ে আমরা এই ম্যাচে খেলেছি, সবাই দক্ষ এবং সবাই ভালো বোলিং করেছে। এই ইনিংসে মিরাজ যেভাবে শুরুটা দিয়েছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিল, ওখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া। এরপর তাইজুল ভাই মিডল ওভারে দারুণ বোলিং করেছে। চার-পাঁচ বোলারেরই অবদান ছিল। বিশেষ করে এই ইনিংসে তাসকিন এবং রানার ওই স্পেলটা অসাধারণ ছিল।
প্রশ্ন : দুই ইনিংসেই দারুণ ব্যাটিং করেছেন। দুটিই সেঞ্চুরি হতে পারত। নিজের ব্যাটিং নিয়ে আপনার কী মূল্যায়ন?
শান্ত : আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসে ইনিংসটা বড় হতে পারত। যেভাবে আমি ব্যাটিং করছিলাম, উইকেটটা অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশেষ করে প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে আমি যেভাবে ব্যাটিং করতে চেয়েছি, করতে পেরেছি। যদিও তৃতীয়-চতুর্থ দিনের উইকেট কঠিন থাকে। পঞ্চম দিনে ব্যাটিং করলাম, সব মিলিয়ে ব্যাটিং ভালো হয়েছে। তবে আমি বলব, প্রথম ইনিংস আরেকটু বড় হতে পারত।
প্রশ্ন : দ্বিতীয় ইনিংসে রিভার্স সুইং পেয়েছেন নাহিদ রানা, এটা দেখাটা কি বিস্ময়কর ছিল? আর এই টেস্ট ছাড়াও সম্প্রতি আপনি যেভাবে ব্যাটিং করছেন, আপনার কি মনে হয় আপনি ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে আছেন?
শান্ত : রানার কাছ থেকে রিভার্স সুইংটা সারপ্রাইজিং। পেছন থেকে আমি ও লিটন আলাপ করছিলাম যে, রানার বল এভাবে ভেতরে আসবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করিনি। এটা একটা ভালো দিক, ভালো লাগার বিষয়। যে বল শাইন করছিল, তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। কে করেছে, এটা বলা যাবে না। এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক যে, রানাও রিভার্স করাতে পারে। যেটা তাসকিন, ইবাদত, শরিফুল, খালেদরা সব সময় করে থাকে। রানাও ধীরে ধীরে শিখছে। আমার ব্যাটিং নিয়ে বলব, আমার জায়গায় কোনো বড় ব্যাটসম্যান থাকলে ১০০টা ২০০ হতো। এটা খুবই সত্য কথা। আমি বলব না যে, আমি আমার সেরা ছন্দে আছি। আমি মনে করি, আমার আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল প্রথম ইনিংসে।
