অনলাইনেও রেলের টিকিটে হাহাকার

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২৫ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রেলওয়ে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে অনলাইনে বিভিন্ন রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের প্রায় সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। টিকিটের জন্য সকাল ৮টায় প্রথম আধাঘণ্টায় রেলের ওয়েবসাইটে প্রায় ৬০ লাখ বার হিট হয়েছে। আর এক ঘণ্টায় পশ্চিমাঞ্চলের নির্ধারিত ১৫ হাজার ২৬৬টি টিকিটের মধ্যে ১৫ হাজার ৪৩টি টিকিটই বিক্রি হয়ে যায়। গতকাল ২৩ মের টিকিট বিক্রি করা হয়। ভোগান্তি এড়াতে অগ্রিম টিকিটের শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রাহকদের সতর্কতার জন্য রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ থেকে টিকিট কেনার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্বাঞ্চলের টিকিটের জন্যও ওয়েবসাইটে বিপুল হিট হচ্ছে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের ট্রেনগুলোয় বরাবরই চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় এসি কামরার টিকিটের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে একসঙ্গে অনেক মানুষ টিকিট কেনার জন্য চেষ্টা করেন। সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানের জন্য একজন টিকিট পেয়েছেন, অন্যরা ব্যর্থ হন।

সকালের দিকে টিকিট কিনতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা ছিল বিপুল। বিশেষ করে প্রথম আধাঘণ্টায় টিকিটের জন্য ৬০ লাখ বার চেষ্টা হয়। অর্থাৎ ৬০ লাখ হিট হয়েছে ওয়েবসাইটে। দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ) জন্য নির্ধারিত টিকিট।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেলওয়ে টিকিট বিক্রির জন্য আগেই সূচি ঠিক করে দেয়। সে অনুযায়ী গতকাল বিক্রি হয় ২৩ মের টিকিট। একইভাবে ১৪, ১৫ ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মের টিকিট পাওয়া যাবে। বিগত ঈদের মতো এবারও প্রতিদিন সকাল ৮টায় রেলের পশ্চিমাঞ্চলের এবং দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হয়।

টিকিট বিক্রিসংক্রান্ত নির্দেশনানুযায়ী, ঈদে অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী দিনে একবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। যাত্রার দিন ট্রেনের মোট আসনের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি হবে। তবে এ টিকিট দিয়ে উচ্চ শ্রেণির কোচে যাতায়াত করা যাবে না।

কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। এগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে ‘তিস্তা স্পেশাল’ ও চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’ চলবে। এ ট্রেন দুটি ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন চলাচল করবে। এ ছাড়া ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিন দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে। এসব ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার ঈদগাহের উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।

এর পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য থাকছে পশুবাহী দুটি বিশেষ ট্রেন (ক্যাটল স্পেশাল)। এ ক্যাটল ট্রেন দুটি ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত