ডেঙ্গুজ্বরে সারাবছরই কমবেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম থাকে। জুন মাস থেকে শুরু হয় এর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। তারপর বছরের বাকি সময় চলে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার ভয়াবহ তা-ব। একসময় রাজধানীকেন্দ্রিক বেশি মানুষ আক্রান্ত হতেন। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও অনেক বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে গত বছর ভোলা জেলার চিত্র ছিল ভয়াবহ। এ বছরও এডিস মশার ঘনত্ব অনেক বেশি। তাতে বিশেষজ্ঞরা গত বছরের তুলনায় এবার সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১২ মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজন। ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৭৫৪ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০ এবং মে মাসের ১২ দিনে ২৭১ জন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, এবার সারা দেশে ডেঙ্গু বাড়বে। ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য এডিস মশার ঘনত্ব যে মাত্রায় থাকা দরকার, তার থেকেও বেশি আছে। এখনই যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে ডেঙ্গু বাড়বে। ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য এখনোই বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত মশকনিধন কার্যক্রম চালাতে হবে।
তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেছেন, সরকার ধরেই নিয়েছে এবার ডেঙ্গু বাড়তে পারে। সে জন্য আগে থেকেই সরকারপ্রধানও বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়ার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। সেভাবেই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এখন হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এটা হয়তো কিছু দিনের মধ্যে কমে আসবে। হামে শিশুরা আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু শুধু শিশু না, সব বয়সীর জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। হাম কমে আসতে আসতে ডেঙ্গুরও মোকাবিলা করতে হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খুবই সতর্ক।
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এর আগে গত ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিওবার্তা দেন। প্রতিটি এলাকার সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেক সপ্তাহের শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনানুযায়ী, গত ১৪ মার্চ শনিবার থেকে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ পর তার আর তেমন ধারাবাহিকতা রাখতে দেখা যায়নি।
ঢাকার বাইরে কার্যক্রম খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যে বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমেছে। প্রত্যেক মাসের প্রথম শনিবারকে ক্লিনিং ডে হিসেবে ঘোষণা করে গত ৭ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো লার্ভার অবস্থা বুঝতে বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি সহযোগিতা করছে। এ জরিপ শেষে এডিশ লার্ভার ঘনত্ব বুঝে সেভাবে কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি ভবনের আঙিনা পরিষ্কার রাখা ও সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে (অঞ্চল-২) সদস্য সচিব করে মতিঝিল এলাকার জন্য একটি তদারকি কমিটি করা হয়েছে।
ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, ‘এ বছর আমরা নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছি। এডিস মশার লার্ভা কোথায় বেশি রয়েছে, তা বুঝতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো বিশেষ জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১২ দিনব্যাপী জরিপ শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এতে কোন ওয়ার্ড বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কোনটি মধ্যম ঝুঁকিতে এবং কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হবে। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি, এ উদ্যোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।’
ডিএসসিসি থেকে জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মশকনিধন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। সচেতনতা তৈরির জন্য লিফলেট বিতরণ, স্কুলভিত্তিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতি শনিবার বড়পরিসরে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ডা. নিশাত পারভীন বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। আমরা মনে করি, শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই হবে না, মানুষকে সচেতন করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি বাসা বা ব্যক্তিগত জায়গায় সরাসরি পৌঁছানো সবসময় সম্ভব হয় না। বিশেষ করে শনিবার বড়পরিসরে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। ওই দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় প্রশাসক, চিফ এক্সিকিউটিভসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া নিয়মিতভাবে স্কুলপর্যায়ে সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টররা পর্যায়ক্রমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বর্তমানে পরীক্ষা চলমান থাকায় কিছু দিন কার্যক্রম সীমিত রয়েছে, তবে পরীক্ষা শেষে আবার পুরোপুরি শুরু হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মশকনিধন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগপ্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকযোগে (রোড শো) জারি/বাউল গানের মাধ্যমে জনগণের মাঝে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করেছে। ১০ মে শুরু করা এই কার্যক্রম চলবে ২৬ মে পর্যন্ত। ১০টি অঞ্চলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনে এই কার্যক্রম চলবে। এ ছাড়া নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে গতকাল সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখন সামনে ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩১ হাজার ৬৮২ জন, যা সারা দেশে ভর্তি রোগীর ৩০ দশমিক ৮০ শতাংশ। কিন্তু ঢাকা দুই সিটি কপোরেশন ভর্তি রোগীদের ওপর জরিপ চালিয়ে রাজধানীর বাসিন্দা পেয়েছে ছয় হাজার ৫৮০ জন। সেই হিসেবে রাজধানী হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ রাজধানীর বাসিন্দা। বাকি ৭৯ দশমিক ২৪ শতাংশ ঢাকার বাইরের। তাতে সারা দেশে ভর্তি রোগীর মাত্র ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ রাজধানীর বাসিন্দা। ওই হিসাবে বাকি ৯৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীই ঢাকার বাইরের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছর দুই হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে রোগী ভর্তি হয় আট জেলায়, দেড় থেকে দুই হাজারের মধ্যে চার জেলায়, এক থেকে দেড় হাজারের মধ্যে সাত জেলায় এবং পাঁচশ থেকে এক হাজারের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ১২ জেলায়। অর্থাৎ ৫০০ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে রোগী ভর্তি হয়েছে ৩২ জেলায়। পাঁচশর কম করে ভর্তি হয়েছে ৩২ জেলায়।
জেলাভিত্তিক সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলায়; ৯ হাজার ৫৩৪ জন। এরপর পর্যায়ক্রমে বেশি ভর্তি হয়েছে গাজীপুরে; চার হাজার ৭৫৪, চট্টগ্রামে চার হাজার ৭২৯, পটুয়াখালীতে চার হাজার ৫৯৩, বরিশালে চার হাজার ৫৩, ময়মনসিংহে তিন হাজার ৭, কুমিল্লায় তিন হাজার, মানিকগঞ্জে দুই হাজার ৪১৩ জন। নারায়ণগঞ্জে এক হাজার ৯২৮, চাঁদপুরে এক হাজার ৮৬৭, পিরোজপুরে এক হাজার ৭৬৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ৭১৫, কক্সবাজারে এক হাজার ৭০৫ জন। কিশোরগঞ্জে এক হাজার ৩৭০, নরসিংদীতে এক হাজার ৩৫৪, রাজশাহীতে এক হাজার ৩০৯, টাঙ্গাইলে এক হাজার ২৯৮, যশোরে এক হাজার ২৮২, মাদারীপুরে এক হাজার ২৬৩, খুলনায় এক হাজার ১৯৬ জন। সিরাজগঞ্জে ৯২৬, ফেনীতে ৮৫৫, ঢাকা জেলায় ৮২৮, ভোলায় ৮১০, ঝালকাঠিতে ৭৯৪, বান্দরবানে ৭৬৩, জামালপুরে ৭৪৮, বগুড়ায় ৬৭৩, কুষ্টিয়ায় ৬৩০, পাবনায় ৬০৪, লক্ষ্মীপুরে ৫৭৭, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ৫৬০ জন। এ জেলাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া প্রতি বছরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের শেষ ছয় মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। কম থাকে প্রথম ছয় মাসে। জুন থেকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়, আর নভেম্বরে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পিক সিজন কোনো বছর জুলাই-আগস্ট, কোনো বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর, আবার কোনো বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, অক্টোবর-নভেম্বরে হয়েছে। কোনো বছর তিন-চার মাসও ছিল ভয়াবহতা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। সেই বছর এক লাখ এক হাজার ৩৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ২৬৩ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে আইইডিসিআর ১৬৪ জনের ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু নিশ্চিত করে। ২০২০ সালে করোনার কারণে ডেঙ্গুর দিকে নজর ছিল না। ২০২১ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন। মৃত্যু হয় ১০৫ জনের। ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন ভর্তি হয়। মৃত্যু হয় ২৮১ জনের। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ বছরের মতো আগে কখনোই এত আক্রান্ত বা মৃত্যু হয়নি। এ বছর হাসপাতালে ভর্তি হয় তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু হয় এক হাজার ৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে ২০২৩ সালের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু কমে আসে। তবে মৃত্যুর দিক থেকে তা ২০১৯, ২০২১ ও ২০২২ এই তিন বছরের চেয়েও বেশি। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন। মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৫ সালে ভর্তি হয় এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন। মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপরীতে ২০১৯ থেকে ২৩ পর্যন্ত মৃত্যু বাড়ে। ২৪-২৫ সালে কিছুটা কমেছে। ২০১৯ সালে ৬১৮ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে গড়ে একজনের মৃত্যু হয়, ২০২১ সালে ২৭০ জনে একজন, ২০২২ সালে ২২২ জনে একজন, ২০২৩ সালে ১৮৮ জনে একজন, ২০২৪ সালে ২৩৪ জনে একজন ও ২০২৫ সালে ২৪৯ জনে একজনের মৃত্যু হয়।
