ম্যারাডোনা-মেসি একসাথে খেললে কেমন হতো, আর্জেন্টিনার কোচ যা বললেন

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ২৭ দিন। কাতার জয়ের পর এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য 'চতুর্থ' ট্রফি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আলবিসেলেস্তেদের হেড কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। এর মাঝেই কনমেবল ওয়েবসাইটকে দেওয়া স্ক্যালোনির এক বিশেষ সাক্ষাৎকার, যেখানে ট্রফি ধরে রাখার মিশন, লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ এবং ড্রেসিংরুমের চাপ সামলানোর রণকৌশল নিয়ে অত্যন্ত বাস্তববাদী কিন্তু আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন এই মাস্টারমাইন্ড।

বিশ্বকাপ ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে স্ক্যালোনি বরাবরের মতোই বিনয়ী ও বাস্তববাদী। তিনি বলেন, 'বিশ্বকাপ জেতা অত্যন্ত কঠিন। আমার মতে, চ্যাম্পিয়ন হতে হলে অনেকগুলো বিষয়ের নিখুঁত সংযোগ ঘটতে হয়, শুধু ভালো খেললেই কাপ জেতা যায় না। তবে আর্জেন্টিনা যখনই বিশ্বকাপে যায়, সর্বোচ্চ অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই যায়। কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।'

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জন ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিনের। তবে স্ক্যালোনি এই বিষয়ে এখনই কোনো দীর্ঘশ্বাস বা আক্ষেপ প্রকাশ করতে রাজি নন। বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, 'সে খেলা চালিয়ে যাবে—আমি এটাই ভাবতে পছন্দ করি। কারণ তা না হলে মনে এক ধরনের শূন্যতা ও দুঃখ চলে আসে, যেমনটা ডিয়েগোর অবসরের পর আমাদের হয়েছিল। মেসি তার শেষ বিশ্বকাপ খেলছে কি না, তা নিয়ে না ভেবে আমি বর্তমান উপভোগ করতে চাই। শুধু আর্জেন্টাইনরাই নয়, পুরো বিশ্বের মানুষই তাকে মাঠে দেখতে পছন্দ করে।'

স্ক্যালোনি একটি চ্যারিটি ম্যাচের স্মৃতি রোমন্থন করেন, যেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসি একসাথে একই দলে খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে স্ক্যালোনি নিজেও তাঁদের সতীর্থ ছিলেন। ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তের কথা মনে করে তিনি বলেন, 'আমি স্বভাবগতভাবে বহির্মুখী হলেও সেদিন ড্রেসিংরুমে ঢুকে চুপচাপ এক কোণায় দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিলাম। কারণ আমার চারপাশে তখন পৃথিবীর সব জীবন্ত কিংবদন্তিরা ছিলেন। আমি কিছুটা লাজুক বোধ করছিলাম। ডিয়েগো, রোমান (রিকেলমে) এবং লিও-র সাথে একই দলে খেলা এক অবিস্মরণীয় অনুভূতি। তাঁরা যে একসাথে খেলেছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।'

বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে ম্যারাডোনা-মেসিকে একসাথে খেলালে কৌশল কেমন হতো? স্ক্যালোনি হেসে বলেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই তাঁরা একসাথে খেলতেন। আমি এমন একজন কোচ যে নিজের ইচ্ছামতো খেলার সিস্টেম তৈরি করে না, সিস্টেম তৈরি হয় খেলোয়াড়দের ওপর ভিত্তি করে। তাঁরা বিশ্বের সেরা, তাঁরা খেলবেন না কেন? তাঁরা খুব সহজেই মাঠে একে অপরের পরিপূরক হতে পারতেন। আর তখন সমস্যাটা আমাদের হতো না, আসল সমস্যায় পড়ত প্রতিপক্ষ দলগুলো।'

নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে স্ক্যালোনি জানান, তিনি নিজেও একসময় হারের ভয়ে ভুগতেন। তবে কোচ হওয়ার পর তাঁর দর্শন বদলেছে। খেলোয়াড়দের চাপমুক্ত রাখতে তিনি বলেন, 'আমি ছেলেদের বলি—ম্যাচে যা-ই ঘটুক না কেন, পরদিন সকালে তোমাকে ঘুম থেকে উঠতেই হবে, অনুশীলন করতে হবে এবং মাঠে নামতে হবে। জয়, পরাজয় বা ড্র তোমার জীবন বদলে দেবে না। এই ভাবনাটাই খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শান্ত রাখে এবং ম্যাচের দিন চাপমুক্ত হয়ে নিজেদের উজাড় করে দিতে সাহায্য করে।'

ঘোষিত প্রাথমিক তালিকা থেকে শিগগিরই ২৬ জনের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন স্ক্যালোনি। মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনা আগামী ৬ জুন হন্ডুরাস এবং ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।

এরপর আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ 'জে' -তে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো জর্ডান এবং অস্ট্রিয়া।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত