আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করছে একটি চক্র। পরে তারা এই টাকা দেশের বাহিরে পাচার করেছে বলে অভিযোগ সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ওই চক্রের মূলহোতাসহ ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ১০-১২ দিন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকাসহ ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান।
রবিবার (১৭ মে) বিকালে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতো। পরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতো।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে গত প্রায় ৬মাস প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো। যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করে আসছিল।
সিআইডি’র সিপিসির সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায় বাংলাদেশে একটি চক্র আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। এসব সাইটে জুয়াড়িরা টাকা লেনদেন করছে। এই ঘটনার পর ডিএমপির পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চক্রের সদস্যদের শনাক্তের পর গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে প্রথম চার সদস্যকে গ্রেপ্তাার করে সিআইডি। তারা হলেন- আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম ও জসীম উদ্দীন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ মে নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান।
তাদের কাছ থেকে ১৩টি মোবাইল, ২০টি সিম কার্ড, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দু’টি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি চক্রের একাধিক সদস্য স্বীকার করেছে, বিগত ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে প্রতিদিন গড়ে দেড়- দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে। পরে ওই অর্থের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত তারা।
সিআইডি প্রধান বলেন, চলতি মাসের গত ১৬দিনে জুয়ার সাথে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে বিএফআইইউতে পাঠানো এমএফএস ৮৭৯টি এবং অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএফআইইউতে পাঠানো ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৪৩টি। বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আসামিদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ পনজি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
পদত্যাগ করলেন এনসিপির সদস্য সচিব