জন্মহার বাড়াতে নতুন উদ্যোগ ভারতের

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০২:২১ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে এখন বেশি সন্তান নেওয়ার পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো জন্মহার কমে যাওয়াকে ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে বড় পরিবার গঠনে উৎসাহ দিচ্ছে।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী প্রায় চার দশক পর্যন্ত ভারতের জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে এবং তা প্রায় ১৭০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তবে দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক ও হিন্দু সংগঠন মনে করছে, জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা এখনই মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার মতো উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট প্রজনন হার বা টিএফআর ১৯৯২-৯৩ সালে যেখানে ছিল ৩ দশমিক ৪, তা ২০১৯-২১ সময়ে নেমে এসেছে ২-এ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের শিক্ষা বৃদ্ধি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ার কারণে এই হার কমেছে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণত ২ দশমিক ১ প্রজনন হার প্রয়োজন হয়।

দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশ সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলে এককালীন ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি দেওয়া হবে। এর আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ২৫ হাজার রুপি সহায়তার প্রস্তাব ছিল। তবে নতুন কর্মসূচি কবে থেকে চালু হবে, তা জানানো হয়নি।

অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশে জন্মহার কমে যাওয়ায় বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়ছে এবং অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, 'একসময় আমরা পরিবার পরিকল্পনায় জোর দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সন্তানকে সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে।'

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ছোট রাজ্য সিকিমও বেশি সন্তান নেওয়ার পক্ষে উৎসাহ দিচ্ছে। সেখানে এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং আইভিএফ চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার মতো সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)ও বড় পরিবারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে সম্প্রতি বলেন, 'আমরা বলি ভারত তরুণদের দেশ। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রজনন হার কমছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হলে ভবিষ্যতে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।'

অন্যদিকে ভারতের বেকারত্ব পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের মধ্যে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। শহরাঞ্চলে তরুণদের বেকারত্বের হার আরও বেশি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত