চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ২ নম্বর গেইটে খাবার দোকানে অভিযান পরিচালনা ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের একপর্যায়ে চাকসু প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এসময় চাকসু প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চাকসু ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ২ নম্বর গেট এলাকায় বসবাস করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই নম্বর গেইটের অধিকাংশ খাবার দোকানে মানসম্মত স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয় না। একাধিকবার মানহীন, বাসি খাবার পরিবেশনের অভিযোগ উঠে দোকানিদের বিরুদ্ধে। এছাড়া খাবারের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২নং গেইটের কয়েকটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ছয় থেকে সাতটি দোকানকে জরিমানা করা হয়। পরে জাহান বেকারিতে জরিমানা করতে গেলে স্থানীয় কিছু লোক ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
এসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২ নম্বর গেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এলাকা নয়, তাই সেখানে চাকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতির যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া অভিযান ও জরিমানার প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, “ছাত্রদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রায় ছয় থেকে সাতটি দোকানে জরিমানা করেছি।
অভিযানে ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও চাকসুর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাহান বেকারিতে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর উপস্থিত স্থানীয় কিছু লোক আমাদের ওপর তেড়ে আসে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টা আমরা অবরুদ্ধ ছিলাম। এ সময় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নীরব। শারীরিকভাবে আঘাত না পেলেও আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, “দুই নম্বর গেট যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের এলাকা, তাই স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন সেখানে কেন চাকসু প্রতিনিধিরা যাবে।
এছাড়া তাদের অভিযোগ ছিল, নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হয়নি। অভিযানের সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। তবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। তখন পুলিশি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলি এবং তাদের অভিযোগ শুনলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। জরিমানা করেছেন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট। একজন ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে যেকোনো জায়গায় অভিযান পরিচালনা করতে পারেন।
চাকসু প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরেই অভিযান পরিচালনা করেছেন এরপর ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্টদের সাথে ২ নাম্বার গেটে গিয়েছিল। জরিমানার বিষয়ে তাদের আপত্তি থাকলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জানাতে পারে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সহকারী ভোক্টা অধিকার কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, “ছাত্রদের অভিযোগ পেয়ে আমরা বিভিন্ন দোকানে অভিযান পরিচালনা করেছি। কয়েকটি দোকানকে বিভিন্ন হারে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের সময় স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে কিছুটা উচ্চবাচ্য হয়।”
ফল প্রকাশের দিনই ঢাবির হল ছাড়লেন প্রথম হওয়া শিবির নেতা