দীর্ঘ সময়ের কঠোর মুদ্রানীতির অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি তহবিল নেওয়ার সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ-সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি ডিপার্টমেন্ট (এমপিডি)। নতুন সুদহার কাঠামো আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম এবং মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভায় দেশের মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্যসহ বিভিন্ন সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক পর্যালোচনা করা হয়। গভর্নর ও এমপিসির সভাপতি মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পর্যালোচনা শেষে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা হিসেবে ব্যবহৃত এসএলএফ রেটও ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। তবে করিডোরের নিম্নসীমা হিসেবে ব্যবহৃত এসডিএফ রেট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসা, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। নীতি সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের ব্যয় কিছুটা কমবে, যা আগামী দিনে ঋণের সুদহার ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এমপিসির সভায় ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোঃ আক্তার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহার এবং ইনস্টিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী উপস্থিত ছিলেন।
