গাজামুখী ফ্লোটিলায় গুলি অর্ধশত নৌযান আটক

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০২:১৯ এএম

গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। এ নৌবহরের আয়োজকেরা জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দুটি নৌযান লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনারা গুলিবর্ষণ করেছে। পাশাপাশি বহরে থাকা ৫০টি নৌযানের সবকটি আটক করা হয়েছে। সঙ্গে ৪০টির বেশি দেশের ৪২৮ জন অংশগ্রহণকারীকেও আটক করেছে ইসরায়েল; তাদের মধ্যে তুরস্কের ৭৮ নাগরিক রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্দোলনকর্মীদের সবাইকে ইসরায়েলি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা বর্তমানে ইসরায়েলের পথে রয়েছেন। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আন্দোলনকর্মীদের নিজ নিজ কনস্যুলার প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে।

পরে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কখনোই প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করা হয়নি। সেখানে আরও বলা হয়, একাধিকবার সতর্ক করার পর, বিক্ষোভকারীদের দিকে নয়; বরং সতর্কবার্তা হিসেবে নৌযানগুলো লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী নয় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কোনো বিক্ষোভকারী আহত হননি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী ত্রাণবহরের পক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা দুটি নৌযান লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। তবে সেগুলো কী ধরনের গোলাবারুদ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে গত সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দেয়, তারা গাজার ওপর আরোপিত ‘আইনসম্মত নৌ-অবরোধ’ কোনোভাবেই ভাঙতে দেবে না। ত্রাণবহরে ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ ও নৌযান আটকে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আঙ্কারায় দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি এই বহরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। গত বৃহস্পতিবার ৩৯টি দেশের ৪২৬ জন অধিকারকর্মী ও সাহায্যকর্মী নিয়ে দক্ষিণ তুরস্ক থেকে তৃতীয়বারের মতো গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এই ত্রাণবহর। এর আগের দুটি প্রচেষ্টাও আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ত্রাণবহরের সঙ্গে যুক্ত চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ওয়াশিংটনের দাবি, এই ত্রাণবহরটি ‘হামাসপন্থি’। তবে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং হামাসকে সমর্থন করা এক বিষয় নয়। ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় পৌঁছানো সহায়তার পরিমাণ এখনো চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজার ২০ লক্ষাধিক বাসিন্দার প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তীব্র সংকটের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ এখন বোমা বিধ্বস্ত বাড়িঘর, রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় কিংবা ধ্বংসস্তূপের ওপর তাঁবু খাটিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত