থাকছে ক্যাশলেস সুবিধা

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৮:০৯ এএম

কোরবানির পশুর হাটে এখন ডিজিটাল বা ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশজুড়ে বসেছে পশু কেনাবেচার হাট। এ হাটগুলোতে শত শত কোটি টাকার লেনদেন নিরাপদে পরিচালনার জন্য ক্যাশলেস সুবিধা নিয়ে এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। হাটে নগদ লেনদেনের ঝুঁকির বিপরীতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে তারা।

এবার সারা দেশে বসছে তিন হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট। এসব হাটে নিরাপদ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাড়ানো হয়েছে ক্যাশলেস সেবার পরিধি। হাটগুলোতে বসানো হচ্ছে অস্থায়ী ব্যাংকিং ক্যাম্প, ডিজিটাল বুথ, এটিএম ও জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কোরবানির পশুর হাটে এখনো বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে আলাদা বিশেষ ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।

বিকাশের মিডিয়া বিভাগ থেকে দেশ রূপান্তরকে জানানো হয়েছে, সাধারণত একজন গ্রাহক বিকাশ বা অন্য কোনো এমএফএস প্ল্যাটফর্মে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিময় করতে পারে। অথচ কোরবানির পশুর হাটে অনেক সময় একেকটি গরু বা পশুর মূল্য কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে বড় অঙ্কের কেনাবেচায় এখনো নগদ অর্থই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশুর হাটে আলাদা কোনো প্রচারণা বা ক্যাম্পেইন না থাকলেও তাদের সাইবার সিকিউরিটি ও মনিটরিং টিম সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক, প্রতারণা, অবৈধ লেনদেন বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাহকের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীর গাবতলী হাটে গোলাম আশরাফ তালুকদার নামে এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গ্রাহক ও ক্রেতা উভয়ের জন্য ভালো। অনেক সময় দেখা যায়, পশু কেনার সময় বাজেটের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তখন অতিরিক্ত টাকা ডিজিটাল ক্যাশলেস পদ্ধতিতে পেমেন্ট করে পশু কিনতে সহায়ক হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আমাদের জন্যও স্বস্তিদায়ক।

সম্প্রতি প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, ‘এবার ঈদে কোরবানির জন্য দেশে এক কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু বেশি থাকবে।’

জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২ সাল থেকে গবাদিপশুর হাটে ডিজিটাল লেনদেন বা ব্যাংকিংসেবা চালু করে। ওই বছর ঢাকার ৬টি হাটে ছয় ব্যাংক অংশগ্রহণ করে। এ কার্যক্রমে ১৩ হাজার ২১১টি লেনদেনে টাকার পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি। পরের বছর ২০২৩ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১০টি হাটে ১০টি ব্যাংক অংশগ্রহণ করে। এতে লেনদেনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও লেনদেন হয়েছে  ৪৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নাটোরসহ মোট ১০টি হাটে ৯টি ব্যাংক অংশগ্রহণ করে। ওই বছর লেনদেন হয়েছিল ৯৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৯টি হাটে ১৪টি ব্যাংক অংশগ্রহণ করে। এতে ডিজিটালি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে ৪৫ হাজার ৮৯৭টি, যাতে টাকার পরিমাণ ছিল ২২৭ কোটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঢাকার ২৫টি, চট্টগ্রামে দুটি, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরে একটি করে মোট ৩০টি হাটে ধাপে ধাপে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং পয়েন্ট অব সেল (পস) মেশিন স্থাপন করা হবে। এসবের মাধ্যমে বিক্রেতারা সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন এবং ক্রেতারাও সহজে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

এবার ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি মহানগরীর ৩০টি পশুর হাটে অস্থায়ী ব্যাংকিং ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। রাজধানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১টি হাটে ডিজিটাল সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে কোরবানির পশুর হাটে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রমে গত চার বছরে লেনদেনের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। ক্যাশলেস লেনদেনের বিস্তারে কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করে তুলব আমরা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত