ঢাকা মহানগরীতে মব কালচার, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পরিচিতি অনুষ্ঠান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীতে প্রায় তিন কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও চাঁদাবাজি দমনে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত ২০৬ জন এবং অজ্ঞাত আরও চার শতাধিক চাঁদাবাজ, ৮৪৭ মাদক কারবারি ও ৬৭০ ছিনতাইকারী-সন্ত্রাসীসহ অন্তত দুই হাজার ২৪ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজধানীতে ১২৭টি কিশোর গ্যাংয়ের তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্যাং লিডারদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এ সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি।
থানায় দালালচক্র ও হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থানাকে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব করা হবে। কোনো থানায় দালালের উপস্থিতি বা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি নগদ লেনদেন কমিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘একটি নিরাপদ মহানগরী গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
ট্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কমিশনারের ভাবনা : ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপি। নগরীর বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরার সঙ্গে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করে চালু করা হয়েছে। এটি ডিএমপির নিজস্ব উদ্যোগ। ঢাকা শহরের ভৌত অবকাঠামো, জনসংখ্যা, যানবাহনের চাপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এটি স্থাপন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে া ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এর কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। যেখানে সমন্বয় প্রয়োজন, সেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।
