রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যার নির্মম ও লোমহর্ষক ঘটনায় ক্ষোভ, শোক আর তীব্র প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে দেশের ক্রিকেটপাড়ায়। এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একযোগে গর্জে উঠেছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা। ঘটনার নৃশংসতায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আইন পরিবর্তনের দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এমন খবর স্তব্ধ করে দিয়েছে ক্রিকেটারদের। সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ভেরিফায়েড পেজে একের পর এক পোস্টে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন তামিম, মুশফিক, শান্ত ও মিরাজরা।
ঘটনার নৃশংসতায় স্তম্ভিত হয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন অভিজ্ঞ ওপেনার ইমরুল কায়েস। তিনি লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ এ দেশটি আপনি সেভ করুন। এই দেশে আর কোনো শিশুই নিরাপদ নয়। কিছু মানুষ হিংস্র পশুর থেকেও বেশি হিংস্র হয়ে গেছে। যারা সমাজে এসব কাজে লিপ্ত, তাদের জন্য আপনি সংবিধান পরিবর্তন করে কঠোর শাস্তি, ফাঁসি অথবা জনসমক্ষে পাথর নিক্ষেপের একটি আইন পাস করুন। বিচারব্যবস্থা এমন করুন যাতে কেউ আর সাহস না পায় এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে। এসব মানুষের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।’
সিরিজ জয়ের আনন্দের মাঝেই এই খবর বিষণœ করে তুলেছে পেস তারকা শরিফুল ইসলামকে। তিনি লিখেছেন, ‘জয়ের আনন্দ এখনো আছে কিন্তু মনটা বিষণœ, হতাশ। কী দোষ ছিল এই ছোট্ট শিশুর? আমরা কবে এসব থেকে মুক্ত হব? রামিসা হত্যার বিচার চাই। ধর্ষণ যারা করে তাদের এমন উপযুক্ত শাস্তি চাই, যেন পরেরবার কেউ এই ঘৃণিত কাজ করার চিন্তাও করতে পারে না।’
তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব অন্যায়ের বিরুদ্ধে চুপ না থাকার বার্তা দিয়ে লিখেছেন, ‘কোনো শিশুরই এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। চুপ করে থাকা কোনো সমাধান হতে পারে না। আমরা বিচার চাই, জবাবদিহি চাই।’ বার্তার শেষে তিনি #ঔঁংঃরপবঋড়ৎজধসরংধ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান।
অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ছোট্ট রামিসার প্রাপ্য ছিল নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সুরক্ষা এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা নয়। এই নিষ্পাপ শিশুর জন্য দ্রুত ও সঠিক বিচার চাই। কোনো পরিবারকে যেন এমন যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। এক কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে নিজের শঙ্কার কথা প্রকাশ করে ওপেনার লিটন দাস লিখেছেন, ‘রামিসার খবরটি শোনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং হৃদয়বিদারক। কোনো সভ্য সমাজেই এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী আমাদের সবার প্রাপ্য। যেকোনো অন্যায়েরই সঠিক বিচার হওয়া উচিত আর রামিসার ক্ষেত্রে, কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই অবিলম্বে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আসুন উচ্চকণ্ঠে বলি : এই ধরনের জঘন্য অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ও কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।’
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশে নেতৃত্ব দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে, ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো রামিসার জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। দোষীদের এমন শাস্তি হোক যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’
অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ দোষীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে লিখেছেন, ‘নির্মমতার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা ও এই ধরনের অন্যান্য সব ঘটনায় দোষীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ধর্ষণ, নিপীড়ন ও সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
