বিস্ফোরক সংকটে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র পাথর খনি মধ্যপাড়ায় আবার পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বিস্ফোরক দ্রব্য (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের) ঘাটতির কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখে গত সোমবার থেকে খনি শ্রমিকদের সাময়িক ছুটি দিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। তবে মানবিক কারণে ছুটিতে থাকা শ্রমিকদের বেতন প্রদান করবে জিটিসি।
খনি সংশ্লিষ্টরা বলছে, উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে সরকারের। ৩০ জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে খনি সূত্র। এদিকে খনি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা খনি বিশেষজ্ঞদের।
খনি সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য প্রথমে বিস্ফোরণের প্রয়োজন হয়, যার জন্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক অপরিহার্য। বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার বিস্ফোরক ব্যবহার হয়, যা সম্পূর্ণই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী চাহিদামতো যন্ত্রপাতি ও বিস্ফোরক সরবরাহ করার কথা গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষের (এমজিএমসিএল)। কিন্তু চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক সরবরাহ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে খনির উন্নয়ন কাজ ও পাথর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
খনির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ৬ মাস আগে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নতুন অর্ডারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে চীন ওই দ্রব্য সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে চীনা প্রতিষ্ঠানটি তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়। উৎপাদন যাতে দীর্ঘ সময় বন্ধ না থাকে, এ জন্য সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং থাইল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহের চুক্তি করা হয়। থাইল্যান্ডের পোর্টে লোড হয়ে আগামী ১০ জুন চট্টগ্রাম পোর্টে ওই বিস্ফোরক দ্রব্যের চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পুনরায় পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
এর আগে উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক সংকটের কারণে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ২০২২ সালের মে মাসে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারও আগে বিস্ফোরকের অভাবে প্রথম ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস, ২০১৮ সালে ৭ দিন, ২০২২ সালের ১৫ দিন ও ২০২৫ সালে ৪ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল। তবে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আমদানি শুরুর পর গত ১১ মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার উৎপাদন বন্ধ হলো।
এ ব্যাপারে এমজিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম রিটু জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিস্ফোরক আমদানিতে বিলম্ব হওয়ায় সাময়িকভাবে পাথর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্ফোরকের নতুন চালান খনিতে পৌঁছাবে। তা ছাড়া ঈদে সাত দিন খনির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময়ে খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
