নাম ‘বাদশা’। ওজন ১৫শ কেজি। কিছুটা হাতির মতো ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির দেখা মেলে গতকাল শুক্রবার বগুড়ার বনানী হাটে। এর মালিক শাজাহানপুর উপজেলার মাদলার রাশেদুল। দাম হাঁকিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। তবে এ পর্যন্ত দাম উঠেছে সাড়ে ৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই জাতের ১ হাজার কেজি ওজনের একটি গরুর মালিক বগুড়া শহরের মালতীনগর এলাকার রবিউল ইসলাম দাম হাঁকিয়েছেন ৮ লাখ টাকা। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দাম উঠেছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। শাহীওয়াল জাতের দুটি জোড়া গরুর দাম সিএনজি চালক টিটু হাঁকান ৫ লাখ টাকা।
এমন নানা জাতের গরু উঠেছে বগুড়ার এই কোরবানির পশুর হাটে। হাট জমে উঠলেও পর্যাপ্ত পশু আসেনি বলে আক্ষেপ করেন ক্রেতারা। হাটে আসা ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর দাম বেশি হওয়ায় কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন।
বগুড়ার হাটগুলোতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা আসায় দাম অনেক বেড়েছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা। অপরদিকে শৌখিন পালিত গরুগুলো যেমন দেখত সুন্দর ও বড় সাইজের, এসব গরুর দামও তেমনি আকাশচুম্বী।
গত কয়েক দিন বগুড়া জেলার বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, চাহিদা বেশি থাকায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দাম বেশি। হাটের পাশাপাশি খামার থেকেও গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য এই জেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকলেও এবার দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ক্রেতারা পছন্দের পশু ক্রয় করতে বিভিন্ন হাট ঘুরছেন।
জেলার মহাস্থান, চাদমুহা, ধাপেরহাট, কালিতলা, ঘোড়াধাপ হাটে দেখা গেছে, ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। তবে চলতি বছর পশুখাদ্যের দাম ও শ্রমিকের মজুরিসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় পশুপালন খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে করে কোরবানির পশুর দাম গত বছরের চেয়ে বেশি। বগুড়ার হাটগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই বেশি।
বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম, জহির উদিন, আব্দুর রহমান জানান, এবার পশু পালনে খরচ বেড়েছে, তবে হাটে কাক্সিক্ষত দাম নেই। শিবগঞ্জের খামারি মোহন মিয়া তার অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুর দাম ২ লাখ ২০ হাজার হাঁকালেও ক্রেতা ১ লাখ ৫০ হাজার বলে আর দাম বাড়াননি। তবে পরে তিনি সেই গরু ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
হাটে আসা ক্রেতা মিল্লাত হোসেন সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিশাল আকৃতির শাহীওয়াল জাতের গরু ক্রয় করে জানান, গত বছরের চেয়ে এবার দাম একটু বেশি। এছাড়া হাটে গরুর ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছে থেকে ইজারদাররা হাসিল আদায় করছেন, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আরেক ক্রেতা তানসেন উদ্দিন জানান, তারা বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখেছেন গরু পছন্দ হলেও দামে মিলছে না। মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দাম গত বছরের তুলনায় বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ২০০ খামারে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছর প্রস্তুত ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি। গত বছর পশুর চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ২৬০টি। এ বছর চাহিদা ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে ষাঁড় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯০৪টি, বলদ ৪২ হাজার ৩২৮টি, গাভী ৬৩ হাজার ৫৫২টি, মহিষ ২ হাজার ১৫৫টি, ছাগল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি এবং ভেড়া ৫৪ হাজার ২৯টি। এসব পশু জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্রও বিক্রি করা যাবে।
বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রায়হান জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারি গড়ে উঠতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়। খামারিরা যেন লাভবান হয় সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে।
