জাতীয় অধ্যাপক হলেন মাহবুব উল্লাহ্

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ্কে ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা অনুযায়ী গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন কারি করেছে। এই পদে থাকাকালীন মাহবুব উল্লাহ্ জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ড. মাহবুব উল্লাহ্ ইচ্ছানুযায়ী কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে নিজের পছন্দমতো ক্ষেত্রে গবেষণামূলক কাজ করতে পারবেন। তবে যে ক্ষেত্রে কাজ করবেন তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে জানাতে হবে। যে শিক্ষা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত থাকবেন সে প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি শিক্ষা বা গবেষণামূলক কাজের বার্ষিক প্রতিবেদন দেবেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে তার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাবে।

জাতীয় অধ্যাপক পদে থাকাকালীন ড. মাহবুব উল্লাহ্র যেসব বই-পুস্তক ছাপানো হবে, তা থেকে পাওয়া সব সুযোগ-সুবিধা তিনি নিতে পারবেন। তিনি সরকারের অনুমতি নিয়ে বিদেশে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করতে পারবেন। জাতীয় অধ্যাপক পদে থাকাকালীন তিনি অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরি করতে পারবেন না, করলে এই চাকরি থেকে কোনো বেতন বা আর্থিক সুবিধা নিতে পারবেন না।

জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার আমাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে আজ (সোমবার) নিয়োগ দিয়েছে। এর ফলে আমি আরও বেশি করে জ্ঞানচর্চা করতে পারব। আমাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

মাহবুব উল্লাহ্র জন্ম ১৯৪৫ সালের ৯ ডিসেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের তিতাহাজরা গ্রামে। তিনি বৈচিত্র্যময় বর্ণাঢ্য জীবনের মানুষ। কর্মজীবন সক্রিয় রাজনীতি থেকে অধ্যাপনা ও গবেষণা পর্যন্ত বিস্তৃত। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী নেতা। ১৯৭০-এর ২২ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলার কর্মসূচি উত্থাপনের অপরাধে ইয়াহিয়ার সামরিক আদালতে কারাদ-ে দ-িত হয়ে দীর্ঘ ২২ মাস কারান্তরালে অন্তরীণ থাকার পর ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা তাকে কারামুক্ত করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, আতাউর রহমান খান, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, মোহাম্মদ তোয়াহা, কমরেড আবদুল হক, কমরেড সুখেন্দু দস্তিদার, কমরেড দেবেন সিকদারের সাহচর্যে আসেন।

১৯৭২ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সম্পাদকম-লীর সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই ইংরেজি ও বাংলা সংবাদপত্রে লেখালেখি করে আসছেন। জাতীয়তাবাদী চিন্তা-ভাবনার আর্থ-সামাজিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক ভিত্তি নির্মাণ তার সাম্প্রতিক লেখালেখির মূল উপজীব্য। ১৯৭৬ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। ২০০৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে নিয়োজিত থেকে অবসরে যান। পরবর্তী সময়ে ওই বিভাগের প্রফেসর ও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রাজস্ব সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রো-ভিসির দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রির অধিকারী প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ্ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থায় গবেষণামূলক কাজ করেছেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচিত তার ১৩টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত