চাকরি না দেওয়ায় স্কুল মাঠে পাট চাষ

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:২০ এএম

‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা, পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বিঘে জমি’ কবিতার এ দুটো পঙ্ক্তিই যেন অনুসরণ করেছে মুরারিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়ার মুরারিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে। বিদ্যালয়ের মোট জমি ৬৮ শতাংশ। কিন্তু ২০২২-২৩ অর্থবছরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বরাদ্দ পেয়ে বিপাকে পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কারণ. প্রাচীর সোজা করতে হলে দরকার পাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। আর সে কারণে জমি মালিককে তার ছেলের চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই নেওয়া হয় ১৩ শতাংশ জমি। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পেরোলেও ছেলে চাকরি পায়নি। তাই মালিক তার জমিতে শুরু করেছেন চাষাবাদ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার খানম জানান, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলেই প্রাচীর নির্মাণ করেন। রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমও বিষয়টি জানতেন।

তবে কী শর্তে জমি নেওয়া হয়েছিল, তা জানা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের নামে রেজিস্ট্রি না থাকায় জমির মালিকরা শুরু থেকেই চাষাবাদ করছেন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বাধা দেয়নি, কারণ সেটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি নয়।

এদিকে জমির মালিক কালাম খানের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ তার ছেলেকে বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে মৌখিক সমঝোতায় প্রায় ১৩ শতাংশ জমি নিয়েছে। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলেকে চাকরি দেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে থাকা নিজেদের জমিতে তিনি আবার চাষাবাদ শুরু করেছেন।

তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘ছেলের চাকরির ব্যবস্থা না হলে অন্যত্র সমপরিমাণ জমি দিতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করে আরও জানান, ছেলেকে ঢাকার চাকরি থেকে ফিরিয়ে এনে এখন ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পাট চাষের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের খেলার পরিবেশ। তাদের দাবি, পাটক্ষেতের কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আবার পোকামাকড়ের ভয়েও থাকতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘জমিটি এখনো ব্যক্তি মালিকানাধীন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।’ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত