প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বাক্ষরযুক্ত চারটি ব্ল্যাংক চেক কেন্দ্র করে খুলনা ওয়াসায় চলছে নানা গুঞ্জন। এ টাকা কাকে বা কাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। আলোচিত চারটি চেকে বিপুল অঙ্কের টাকার উল্লেখ থাকলেও প্রাপকের নাম ও তারিখের ঘর ফাঁকা রাখা হয়েছে। জানা গেছে, চেকগুলোতে শুধু টাকার অঙ্ক ও প্রদানকারীর স্বাক্ষর রয়েছে।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া চারটি চেকের ফটোকপি ঘিরে বিষয়টি সামনে আসে। ফটোকপিতে দেখা যায়, সাউথইস্ট ব্যাংক খুলনা শাখার একটি হিসাব থেকে দুটি ২৪ কোটি টাকা করে মোট ৪৮ কোটি এবং আরও দুটি ২৩ কোটি টাকা করে মোট ৪৬ কোটি টাকার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চেকগুলোর মোট পরিমাণ প্রায় ৯৪ কোটি টাকা।
ফটোকপিতে দুটি স্থানে গ্রহণকারী হিসেবে ‘মো. নাহিদুল ইসলাম’ নামে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে ‘মো. নাহিদুল ইসলাম বুঝিয়া পাইলাম’ বলেও উল্লেখ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনা ওয়াসার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেন, চেকগুলোর স্বাক্ষর ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামের।
ওয়াসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম অতীতে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। একই সঙ্গে খুলনা ওয়াসার দ্বিতীয় পর্যায়ের (ফেজ-২) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদে দায়িত্ব পাওয়ার জন্যও তিনি তদবির করেছিলেন।
সূত্র জানায়, খুলনা ওয়াসার ফেজ-২ প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের পিডি পদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়।
পরবর্তী সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে গত ২৬ এপ্রিল মো. রেজাউল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, প্রকল্প পরিচালকের পদটি চতুর্থ গ্রেডের হলেও রেজাউল ইসলাম ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি কিছুই জানি না।’
এ বিষয়ে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘এটি একটি অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়। ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
