ডা. এ হাসনাত শাহীন
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, ইনস্টিটিউট অব ওমেন অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ও এডব্লিউসিএইচ।
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ কোটি এবং বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটিরও বেশি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। আমাদের গলার নিচে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং সার্বিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোনের তারতম্য ঘটলেই নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে সুনির্দিষ্ট লক্ষণ সব ক্ষেত্রে প্রকাশ না পাওয়ায় থাইরয়েডের সমস্যা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই ২৫ মে পালিত হয় ‘বিশ্ব থাইরয়েড দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্যÑ ‘থাইরয়েড সুরক্ষায় চাই সঠিক পুষ্টি’।
থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সঠিক পুষ্টি অপরিহার্য। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম এবং জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ বাদাম ও বীজ রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি নিশ্চিত করতে হবে এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করতে হবে। আজকাল ওজন কমানো, ডায়াবেটিস থাইরয়েড-সহ অন্যান্য হরমোন জনিত সমস্যায় বিভিন্ন রকম ভেষজ (Herbs), ক্রাশ ডায়েট (Crash Diet) কিংবা ডিটক্স প্রোগ্রামের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে শরীরের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ক্যালরির জোগান একদম কমিয়ে দিলে হঠাৎ করে পুষ্টির ঘাটতি হয়ে থাইরয়েড ও অন্যান্য হরমোনের তারতম দেখা দিতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া হঠাৎ ব্যাঘাতগ্রস্ত হয়। শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। প্রাকৃতিক বা অর্গানিক নাম দিয়ে যেসব ভেষজ সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায় সেগুলোর অনেকগুলোতেই ক্ষতিকর মাত্রার রাসায়নিক থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। যা লিভার বা কিডনি ফেইলিউরের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। ভেষজ বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের পরিচিত অনেক প্রাকৃতিক সামগ্রী বা হার্বস যথাযথ পরিশোধন অথবা সঠিক মাত্রায় গ্রহণ না করলে তা শরীরে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে। প্রাকৃতিকভাবেই মানুষের লিভার ও কিডনি ২৪ ঘণ্টাই আমাদের শরীরকে ডিটক্স বা বিষমুক্ত করে যাচ্ছে। তাই শরীরকে ডিটক্স করার অধুনা যেসব পন্থা প্রচলিত তা কতটা বিজ্ঞানসম্মত তা নিয়ে যথেষ্ট গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। শারীরিক সুস্থতায় তথাকথিত ক্রাশ ডায়েট, হার্বস বা অর্গানিক সাপ্লিমেন্ট, ডিটক্সের পেছনে না ছুটে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও পর্যাপ্ত ঘুমানো এই তিনকে গুরুত্ব দিন। ওজন বৃদ্ধি, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, অন্যান্য হরমোন ও মেটাবলিক সমস্যায় কোনো ট্রেড ফলো না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।