মন্ত্রী হওয়ার পর অর্থনৈতিক কষ্টে আছি: ডা. জাহিদ হোসেন

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘মন্ত্রিত্ব নাকি খুবই লোভনীয় বিষয়। কিন্তু যারা এ কথা বলেন, তাদের জন্য বলি—এটি হয়তো ১২ ফেব্রুয়ারির আগের ঘটনা হতে পারে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মন্ত্রিত্ব কোনো লোভনীয় বিষয় নয়; এটি অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব। আমি জাহিদ হোসেন, মন্ত্রী হওয়ার আগে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি স্বাবলম্বী ছিলাম। মন্ত্রী হওয়ার পর বরং অর্থনৈতিকভাবে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি।’

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক এবং ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় তিনি ১০ জনের মাঝে অনুদানের চেক এবং ৪০০ জনের মাঝে চাল বিতরণ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফজরের নামাজের পর সকাল ৬টা থেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করতে হয়—কখন প্রস্তুত হব, কখন অফিসে যাব, কখন কাজ করব। রাত ২টা পর্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হয়। কাজেই এটি কোনো লোভনীয় বিষয় নয়। মন্ত্রিত্ব কোনো সোনার হরিণ বা সোনার বাটি নয়। যে পরিমাণ বেতন দেওয়া হয়—তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। এজন্য আমি আবারও রোগী দেখা শুরু করেছি। সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখি, যাতে সংসারটা একটু ভালোভাবে চলে।’

তিনি বলেন, ‘যারা বিভিন্ন কথা বলেন, তাদের কাছেও প্রশ্ন আছে— ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর বা ‘৩৬ জুলাই’-এর পর অনেকের চেহারা ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই দামি কাপড়চোপড় পরছেন। আমাদের তো আয়কর ফাইল আছে। আপনাদের আয়কর ফাইল কবে খুলেছেন, সেটার অবস্থাই বা কী? সেগুলোও জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা নির্বাচনের আগে আয়কর বিবরণী দিয়েছি, যা ওয়েবসাইটে গেলেই মানুষ দেখতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমল আর গণতন্ত্র এক নয়। বর্তমান সরকার, মন্ত্রী ও প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাই আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।’

নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ধরনের শিশু বা নারী নির্যাতনকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সে যেই হোক না কেন, সে সমাজের শত্রু। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঈদের পর মাদক ব্যবসায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতনকারী এবং নারীদের উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক অভিযান চালানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারির কোনো সুযোগ নেই। ব্যবসা করে খেলে আমরা সম্মান করব, ব্যবসার সুযোগও দেব। কিন্তু কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তখন এমপি বা মন্ত্রীরও কিছু করার থাকবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানজিনা খাতুন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারিছ চৌধুরী, হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ অনেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত