অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে শ্বশুর-জামাই, নিখোঁজ শ্বশুর

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

গরু বিক্রি করতে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কৃষক মুজাম বিশ্বাস (৭০) ও তার মেয়ের জামাই সুরুজ আলী (৩০)। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নিখোঁজ হন তারা দুজন। পরে মেয়ের জামাই সুরুজ আলীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনও সন্ধান মেলেনি বৃদ্ধ মুজাম বিশ্বাসের। এতে ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে পরিবারটির। 

নিখোঁজ মুজাম বিশ্বাস সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে একটি ষাঁড় গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে মেয়ের জামাই সুরুজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে গাবতলী পশুর হাটে যান তিনি। পরে গরুটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিক্রির টাকা রাতেই অন্য একজনের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তারা।

গরু বিক্রি শেষে রাত আনুমানিক ১টার দিকে লোকাল বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন শ্বশুর-জামাই। ধারণা করা হচ্ছে, পথিমধ্যে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের চেতনানাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করে ফেলে।

বুধবার দুপুরে গাজীপুর এলাকা থেকে সুরুজ আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি মুজাম বিশ্বাসের।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সুরুজ আলীর সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও মালামাল লুটে নেয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও মুজাম বিশ্বাসের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবার। ঈদ এখন তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিবারটি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নিখোঁজ মুজাম বিশ্বাসকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

এ ঘটনায় সিংগাইর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজের ঘটনাটি আমাদের থানা এলাকার বাইরে ঘটেছে। তারপরও লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত