মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত

রুটি-মাংস খাওয়া হলো না মাহিরের

আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির শাহরিয়ার (২১) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চরহোসেনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন মাহির। কিছুক্ষণ পরই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যান। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত মাহিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নানি হেলেনা খাতুন জানান, আমার নাতি ঘুম থাইক্যা উঠে বাইরে বের হইছে। আমি নাতির লাগি রুটি-মাংস রান্না কইরা রাখছি। বাইরে থেকে আইয়্যা খাইবো, ও মাহির এহন তোর রুটি মাংস কেলা (কে) খাইবো?__বলেই আহাজারি করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। পাশাপাশি মা মুক্তা আক্তার বার বার অচেতন হয়ে যাচ্ছেন একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে। মাহিরের বাবা আব্দুল কাইয়ুম রেণু ও বোন লাইভা পাগল প্রায়।  

প্রত্যক্ষদর্শী শেখ তোফায়েল আহমেদ রিয়াদ বলেন, আমি ঈশ্বরগঞ্জ থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি মাহিরের মোটরসাইকেল আমাকে ওভারটেক করে কিছু দূর এগিয়ে যেতেই বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় মাহির মোটরসাইকেলসহ ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে পরে যায়। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। চোখের সামনে এমন ভয়াবহ এক্সিডেন্ট জীবনের প্রথম দেখেছি। আল্লাহ মাহিরকে জান্নাতবাসী করুন।

নিহতের পরিবার আরো জানায়, মাহির ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার কালীবাড়ি রোডে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। মাহির শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে বাড়ি ফিরেছে লাশ হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি নান্দাইল উপজেলার মুসল্লি এলাকায়। তার বাবা আব্দুল কাইয়ুম রেণু স্থানীয় বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই)  ওয়াজেদ আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছি। এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত