ফেনীর সোনাগাজীতে উপজেলা বিএনপির এক আলোচনা সভায় সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মঞ্চে এবং দাগনভূঁইয়া থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানের প্রথম সারিতে উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
রবিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টায় সোনাগাজী পৌর মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সৈয়দ আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শেখ ফরিদ বাহার, আলা উদ্দিন আলাল, শামসুদ্দিন খোকন, সালাউদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানস্থলে সোনাগাজী থানার ওসি কামরুল ইসলামকে মঞ্চে প্রধান অতিথির পাশের আসনে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। একইসঙ্গে দাগনভূঁইয়া থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানও মঞ্চের সামনের সারিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করেন। তাদের এ উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিতির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই এ ঘটনাকে সরকারি চাকরিবিধি ও পেশাগত নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদীন বাবলু বলেন, ওসি আমাদের আমন্ত্রিত অতিথি নন, মন্ত্রীর নিরাপত্তার প্রটোকলে এসে মঞ্চে সারিতে বসে যান, পরে তাকে উঠানো সম্ভব হয়নি।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আমি মন্ত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে তার পাশের একটি চেয়ারে বসা ছিলাম। তবে কোন বক্তব্য দেইনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), ফেনী অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে (ক্রাইম এন্ড অপস্ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ছবি দেখে অবাক হয়েছি, পোশাক পরিহিত অবস্থায় পুলিশের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া থানার ওসি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।