বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং বিরল সম্মান। এর ফলে আগামী এক বছর বৈশ্বিক এই ফোরামে বাংলাদেশ সভাপতিত্ব করবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন দেশ নতুন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে চরম সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাস পেরিয়েছে। এই অল্প সময়ে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তাই জনগণকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
যুবসমাজকে রক্ষায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, তরুণ ও যুবকদের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা একটি পুরো জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তিনি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, রুহিয়া অঞ্চলের সুসংগঠিত নারী সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার মূলত কাজের সরকার, কথার সরকার। সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক কাজগুলো সফলভাবে শুরু করেছে। জনস্বার্থে এই উন্নয়নমূলক ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
