সালিশে চোখ-হাত বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে হবি মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে সালিশে হাত ও চোখ বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

গত বৃহস্পতিবার উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া (৪০) নারুই ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের বাসিন্দা। তাকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নারুই গ্রামের সর্দার মোকাররম, মোহসিন, তাজু, ইউপি সদস্য হানিফসহ কয়েকজন মিলে হবি মিয়াকে সালিশে নির্যাতন করেন।

মানিক হায়দার নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'কেউ অপরাধী হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত হবে না। নির্যাতনে জড়িত এসব কথিত সর্দারকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্যাতনে অংশ নেওয়া ইউপি সদস্য মো. হানিফ বলেন, গ্রামে মাদক বিক্রেতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মাদক বিক্রয়ের মাদক ব্যবসার অভিযোগ কারণে গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে এবং গ্রামে চুরির ঘটনাও বাড়ছে। যুবসমাজকে মাদক থেকে বাঁচাতে মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (নির্যাতন) একটু বেশিই হয়ে গেছে।

নবীনগর থানার শিবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর নবী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক। নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদেরও বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। হবি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এভাবে সালিশে তাকে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী দেশ রুপান্তরকে বলেন, কেউ নির্দয়ভাবে কোনো ব্যক্তিকেই প্রকাশ্যে এভাবে হাত-পা বেঁধে পেটানোর মতো জঘন্য কাজ করতে পারেন না। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত