শত কোটি টাকার গ্রিড প্রস্তুত, তবু অন্ধকারে চরফ্যাশন

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

ভোলার চরফ্যাশনে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক ২৩০/৩৩ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (জিআইএস) গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কাজ সম্পন্ন হলেও এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চরফ্যাশনের লাখো মানুষ। ফলে চলমান তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্রটির কমিশনিং গত ২৩ মে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি প্রস্তুতিও শেষ করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। এরপরও বিতরণ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ শুরু না হওয়ায় উপকেন্দ্রটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।


পাওয়ার গ্রিডের বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় নির্মিত উপকেন্দ্রটি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। চিঠিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো দ্রুত লোড গ্রহণের ব্যবস্থা না করলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংজনিত সমস্যার দায় গ্রিড কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

জানা গেছে, নতুন গ্রিডটি চালু হলে চরফ্যাশন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। বিদ্যুতের গুণগত মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও সাধারণ গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন। কিন্তু প্রকল্পটি প্রস্তুত থাকার পরও বিদ্যুৎ গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

চরফ্যাশন বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “নতুন গ্রিড প্রস্তুত হয়ে আছে, অথচ আমরা এখনো দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাচ্ছি। জনগণের কষ্ট যদি না কমে, তাহলে এত টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থ কী?”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাকার্যক্রম এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন গ্রিড চালুর খবরে আশাবাদী হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন না আসায় তাদের হতাশা বাড়ছে।

এ বিষয়ে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, “পাওয়ার গ্রিডের চিঠি আমরা পেয়েছি। আমাদের কারিগরি দল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনগণের অর্থে নির্মিত একটি আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ প্রকল্প দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চরফ্যাশনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা দ্রুত দূর করে নতুন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত