‘লজ্জাবতী’ গাছের পাতায় হাত দিলে কুঁকড়ে যায়। আসলে এটি মানুষের অনুভূতির মতো লজ্জা নয়, বরং বিপদ থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া। পাতায় স্পর্শ লাগলে, গাছের ডাঁটি বা পাতার গোড়ায় এক ধরনের রাসায়নিক ও মৃদু বৈদ্যুতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। রাসায়নিক পদার্থটি খুব দ্রুত এক কোষ থেকে আরেক কোষে যেতে পারে। ফলে পাতার গোড়ায় অবস্থিত কোষগুলো থেকে, পানি ও তরল পদার্থ দ্রুত আশপাশের কোষে ছড়িয়ে পড়ে। কোষের ভেতরে পানির চাপ কমে যাওয়ায় পাতাগুলো নেতিয়ে পড়ে। দেখতে লজ্জায় মাথা নোয়ানোর মতো মনে হয়। স্পর্শ সরিয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর কোষগুলোতে আবার পানির জোগান স্বাভাবিক হলে, পাতাগুলো আগের মতো সতেজ হয়। এই গাছের পাতার কোষগুলো পানি এবং খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ। রাসায়নিক পদার্থটির প্রভাবে পাতার গোড়ায় ফোলা কোষ থেকে খনিজ লবণসহ পানি বের হয়ে আসে। যে কারণে কোষগুলো চুপসে যায়। চুপসানো কোষে পানির চাপ কম, তাই লজ্জাবতী পাতার ডাঁটা বা কাণ্ড সোজা থাকতে পারে না। লজ্জাবতীর যে পাতা স্পর্শ করা হয়, ব্যাপারটা শুধু তার মধ্যে দেখা যায় না। ধীরে ধীরে তা ওপর-নিচে সব পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। আসলে লজ্জাবতী গাছ খুব নরম। বিভিন্ন রোগ সারাতে ভেষজ চিকিৎসায় এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। লজ্জাবতীর লতাপাতা ও ফুলফল পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে, যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিনসহ সব ধরনের খাদ্য উপাদান।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সালাদ, সবজি ও স্যুপ হিসেবে এটি জনপ্রিয়। এ ছাড়া বিশ্বের অনেক দেশে সবুজ সার হিসেবে লজ্জাবতীর ব্যবহার রয়েছে। তবে, আমাদের দেশে লজ্জাবতী গাছের তেমন কোন পরিচর্যা করা হয় না। শহর কিংবা গ্রাম পর্যায়ে হয়তো কেউ কেউ, উদ্ভিদ প্রেমে লজ্জাবতী গাছের চাষ করেন তা কেবলি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য। অন্যকিছু নয়। সত্যিকার অর্থে, লজ্জাবতী গাছের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
