রূপক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে থানা ঘেরাও

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় সাদিকুল ইসলাম রূপক (২৭) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে শুক্রবার রাতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিহতের মায়ের দেওয়া লিখিত অভিযোগকে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে নিজ বসতঘর থেকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়ার মৃত আবদুল মুক্তাদিরের ছেলে সাদিকুল ইসলাম রূপকের হাত পেছন দিকে বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত শক্ত করে পেছন দিকে বাঁধা ছিল। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

রূপকের মা, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনার আগের দিন আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং রাতেও সেখানে অবস্থান করছিলেন। পরদিন বাড়িতে ফিরে তারা বসতঘরের খাবার কক্ষে রূপকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় রূপকের মা রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আলামত হিসেবে রূপকের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার রাতে খাসাড়ীপাড়া শুকতারা জনমঙ্গল সমিতির কার্যালয়ে গ্রামবাসীর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে তারা মিছিল নিয়ে বিয়ানীবাজার থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিজ বসতঘরেই যদি মানুষের জীবন নিরাপদ না থাকে, তাহলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কীভাবে সম্ভব? এ ঘটনায় প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, রূপক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বিয়ানীবাজারের সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পরে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ছবেদ আলী মামলার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা ফিরে যান।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূর উদ্দিন শনিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি একটি ক্লুলেস ঘটনা। এর রহস্য উদ্ঘাটনে আমরা কাজ করছি। বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত