ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে হবি মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে সালিশের নামে হাত ও চোখ বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া নারুই ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের সর্দার মোকাররম, মোহসিন, তাজু এবং ইউপি সদস্য মো. হানিফসহ কয়েকজন ব্যক্তি হবি মিয়াকে সালিশে ডেকে এনে হাত ও চোখ বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করেন। পরে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মানিক হায়দার নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘কেউ অপরাধী হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত কথিত সর্দারদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্যাতনে অংশ নেওয়া ইউপি সদস্য মো. হানিফ বলেন, ‘গ্রামে মাদক বিক্রেতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে এবং চুরির ঘটনাও বাড়ছে। সে কারণে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন, ‘হবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে নির্যাতনটা একটু বেশি হয়ে গেছে।’
নবীনগর থানার শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর নবী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদেরও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘হবি মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এভাবে সালিশের নামে নির্যাতনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেউ নির্দয়ভাবে কোনো ব্যক্তিকেই প্রকাশ্যে এভাবে হাত-পা বেঁধে পেটানোর মতো জঘন্য কাজ করতে পারেন না। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পঞ্চগড় সীমান্তে ৩৪ ঘণ্টা ধরে আটকে ১০ জন