লিচু খাওয়া কতটা নিরাপদ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

লিনা আকতার

পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

লিচুর মিষ্টি স্বাদ এবং এর শ্বাস রসালো ও নরম যা শিশুদের সতেজ ও আকর্ষণীয় করে তোলে। লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে যা একে মিষ্টি স্বাদ দেয়। লিচুতে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উত্তম। লিচুতে পটাশিয়াম ভালো থাকে যা পেশি, স্নায়ু ও তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে।

লিচু পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি রয়েছে। খনিজ পদার্থের একটি পাওয়ার হাউজ এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। এক কাপ তাজা লিচু দৈনিক ভিটামিন-সি ১০০ শতাংশ সরবরাহ করে। শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। গরমের দিনে লিচু একটি আদর্শ ফল, কারণ এতে ৯০ শতাংশ জলীয় উপাদান থাকে, ফলে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। লিচুতে ভিটামিন-বি এবং ভিটামিন-বি৯ থাকে যা হজমশক্তি ও মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। লিচুর শ^াসে পলিস্যাকারাইড থাকে যা ক্যানসার বৃদ্ধি রোধ করে। আপনার সন্তান যদি সুস্থ থাকে এবং ঠিকমতো খায়, তবে সুস্বাদু  লিচু খেতে বাধা নেই।

শিশু দিনে কয়টি লিচু খাবে

শিশুরা লিচু খেতে পারে, তবে শ্বাসরোগ এবং সম্ভাব্য অ্যালার্জির ঝুঁকি কমাতে তাদের বয়স কমপক্ষে এক বছর হলে খেতে দেওয়া উচিত। লিচু খাওয়ার সময়ই ফলের খোসা, বীজ ফেলে দেওয়া উচিত। লিচুর বীজে স্যাপোনিনের মতো রাসায়নিক যৌগ থাকে যা পেটে গেলে ক্ষতিকর।

একটি শিশু দিনে প্রায় ৩ থেকে ৪টি লিচু খেতে পারবে।

লিচু খাওয়া নিয়ে সতর্কতা

শিশুদের খালি পেটে লিচু দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ লিচুতে থাকা বিষাক্ত পদার্থ শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। লিচু খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার খবর আছে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়া। এই শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছিল। শিশুরা খালি পেটে লিচু খাওয়ায়, লিচুতে থাকা মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল গ্লাইসিন নামক বিষাক্ত পদার্থ রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমিয়ে দেয় এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ হয়। পাকা ও কাঁচা উভয় লিচুতেই এই বিষাক্ত পদার্থ থাকতে পারে। এতে শিশুর মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং বুক ধড়ফড় করতে পারে।

লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে অতিরিক্ত খেলে হজমের সমস্যা ও পেট ফাঁপতে পারে। যে কোনো খাবার খাওয়ার পর আধা ঘণ্টা পর লিচু খাওয়া নিরাপদ। লিচুতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি অনেকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এ জন্য লিচু খেয়ে দেখতে হবে শিশুর অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে কি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত