একজন ডাক্তারকে চেনা যায় স্টেথোস্কোপ দিয়ে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে হৃৎপি- এবং ফুসফুসের শব্দ পরিষ্কারভাবে শুনতে সাহায্য করে এই স্টেথোস্কোপ। ১৮২৮ সালে ডাক্তার লাইনেক স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন। তার তৈরি প্রথম স্টেথোস্কোপটি ছিল ৩০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এবং ২ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের কাঠের সিলিন্ডার। লাইনেকের মৃত্যুর পর স্টেথোস্কোপে বিভিন্ন ধরনের বিবর্তন ঘটে। ১৮৯৪ সালে স্টেথোস্কোপে যুক্ত হয় শক্ত ধাতব ডায়াফ্রাম, যার নাম দেওয়া হয় ফোনেন্ডোস্কোপ। ১৯২৬ সালে বোস্টনের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ হাওয়ার্ড স্প্র্যাগ স্টেথোস্কোপে যুক্ত করেন বেল ও ডায়াফ্রাম, যার মাধ্যমে ডাক্তার ইচ্ছে করলে কম ও বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারেন। তারপর প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের স্টেথোস্কোপ।
স্টেথোস্কোপও ধীরে ধীরে ডিজিটাল হচ্ছে। হৃৎপি- বা ফুসফুসের অতি কম মাত্রার শব্দও এখন যন্ত্রের মাধ্যমে শোনা সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, সেই শব্দকে রেকর্ড করে রাখাও যায় ডিজিটাল স্টেথোস্কোপের মাধ্যমে। ডিজিটাল স্টেথোস্কোপের চেস্ট পিসে ডায়াফ্রাম ও বেলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মডিউল : ডেটা অ্যাকুইজিশন বা তথ্য সংগ্রহ, প্রি-প্রসেসিং এবং সিগন্যাল প্রসেসিং। ডেটা অ্যাকুইজিশনের জন্য ছোট্ট মাইক্রোফোন এবং সেন্সর ব্যবহার করা হয়। শব্দ সংগ্রহ করে ডিজিটাল সিগন্যালে পরিবর্তন করে প্রি-প্রসেসিং মডিউলে পাঠায়। প্রি-প্রসেসিং মডিউলে সিগন্যালে কোনো নয়েজ বা অবাঞ্ছিত অংশ থাকে, তা বের করে নেয়। তারপর বিশুদ্ধ সিগন্যালকে পাঠানো হয় প্রসেসিং মডিউলে। ব্লুটুথ বা ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে এই সিগন্যাল পাঠানো যায়। সেখান থেকে সাউন্ড ফাইল আকারে রেকর্ড করা হয়। ডাক্তার সেই ফাইল শুনে রোগ নির্ণয় করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনেকে মিলে শোনা যায়। রোগ নির্ণয়ে ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ ভূমিকা রাখবে বলা যায়।
