অনিশ্চয়তার অবসান; বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকোতে ইরান দল

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচ খেলার উদ্দেশে রবিবার ভোরে মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরে এসে পৌঁছেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। তুরস্কে দীর্ঘ তিন সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে একটি নৈশকালীন ফ্লাইটযোগে সান ডিয়েগো সীমান্তের ওপারে অবস্থিত মেক্সিকোর এই শহরে স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু পর অবতরণ করে ইরান দল।

টিজুয়ানা বিমানবন্দর থেকে যখন ফুটবলারদের বহনকারী বাসটি ছেড়ে যাচ্ছিল, তখন ইরানি ফেডারেশনের কর্তারা বাইরে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ২০ জন ভক্তের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। বিমানবন্দর থেকে দলটিকে কঠোর সামরিক ও পুলিশি পাহারায় তাদের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প ‘হোটেল ম্যারিয়ট’-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

ইরানে ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং একটি ধর্মের মতো; যা দেশটির সব রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। তবে এবার ইরানি দলের বিশ্বকাপ যাত্রা ঘরের ভেতরের রাজনৈতিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন মাটিতে পা রাখা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তার কারণে অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।

এমনকি মার্কিন সীমান্ত ঘেঁষা মেক্সিকোর টিজুয়ানাকে বেস ক্যাম্প হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ রয়টার্সকে জানান, মার্কিন ভিসা পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের অবস্থান যতটা সম্ভব কম রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে শেষ মুহূর্তে অ্যারিজোনা থেকে বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করে ইরানি ফেডারেশন।

রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ জানান, রবিবার টিজুয়ানায় পৌঁছানো ৭০ সদস্যের ইরানি বহরের মধ্যে অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা এখনো মার্কিন ভিসা পাননি। এই বিতর্ক নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কোনো মন্তব্য করেনি।অন্যদিকে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, "ইরান দলের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদ ও প্রয়োজনীয় সহযোগী স্টাফসহ সবার ভিসাই ইস্যু করা হয়েছে।" তবে সুর কড়া করে তিনি আরও যোগ করেন, "বিশ্বকাপের সুযোগ নিয়ে ছদ্মবেশে কোনো সন্ত্রাসী যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।"

ইরান দলকে এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকোর পক্ষ থেকে আতিথেয়তা দেওয়াকে একটি 'সহযোগিতাপূর্ণ কূটনৈতিক অঙ্গভঙ্গি' হিসেবে দেখছেন মেক্সিকোর জাতীয় অভিবাসন সংস্থার প্রাক্তন প্রধান তোনাতিউ গিলেন।

দুই দেশের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ ও চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়া আসরটি এখন দুই চিরবৈরী দেশের ‘সফট-পাওয়ার’ বা কূটনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত