চকরিয়ায় বনভূমিতে সড়ক সংকটে হাতির করিডর

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের আশঙ্কা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যহাতি চলাচলের খুটাখালী-মেধাকচ্ছপিয়া করিডোর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য। এ পরিস্থিতিতে খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)সহ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এ দাবি জানান।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন খুশি কবির, শামসুল হুদা, মো. আলমগীর কবির, জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ বিভিন্ন পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খুটাখালী থেকে ঈদগড় পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক খুটাখালী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশবাদীদের দাবি, খুটাখালী সংরক্ষিত বনাঞ্চল মহাবিপন্ন এশীয় হাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচল করিডোর। বছরের বিভিন্ন সময়ে হাতির পাল এই পথ ব্যবহার করে চলাচল করে। বনভূমির ভেতরে সড়ক নির্মাণ করা হলে হাতির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে মানুষ-হাতি সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়বে।

তারা বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলটিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক বৃক্ষের পাশাপাশি বন বিভাগের রোপণ করা বিপুলসংখ্যক গাছ রয়েছে। এটি বন্যশূকর, বানর, শিয়াল, বনমোরগ, নানা প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। সড়ক নির্মাণের জন্য ভূমি উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত কাজ শুরু হলে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার আশঙ্কাও রয়েছে, যা বনাঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকির।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নতুন সড়ক চালু হলে বনাঞ্চলে মানুষের অবাধ যাতায়াত ও যানবাহনের চলাচল বাড়বে। ফলে বন উজাড়, অবৈধ দখল, বন্যপ্রাণী শিকারসহ বিভিন্ন বনবিরোধী কর্মকা-ের ঝুঁকিও বাড়বে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

পরিবেশবাদীরা চিঠিতে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে গাছ না কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর মাধ্যমে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। যদি বনাঞ্চল ধ্বংস করে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন বলেন, বন কেটে সড়ক নির্মাণ করা বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশের চেতনার পরিপন্থি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাতির চলাচল ব্যাহত হবে, বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই প্রকল্পটি গুরুত্বসহকারে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত