আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার কঠোর শাস্তি অনেকটা অনুমিতই ছিল। তবে, দেখার বিষয় ছিল আসামিদের বিরুদ্ধে ও তাদের পক্ষে আইনি যুক্তি কী দাঁড়ায়। এটি এমনই এক মামলা যেখানে খোদ আসামিপক্ষের আইনজীবীও আসামিদের সাজা চেয়েছেন। নৃশংস এ হত্যা মামলার রায়ে আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসিতে প্রাণদন্ডাদেশ কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। আর দ-ের অর্থ আসামিদের সম্পত্তি থেকে আদায় করে রামিসার পরিবারকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশের পর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন থেকে বিচার শুরু বলে ধরে নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের দিন থেকে মাত্র তিন কার্যদিবসে শুনানি শেষে এ রায় হলো। দেশের ইতিহাসে ধর্ষণের কোনো মামলায় এটিই দ্রুততম রায়। পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে (২০২০ সালের অক্টোবরে) বাগেরহাটে এক শিশু ধর্ষণের আসামিকে বিচার শুরুর পর চার কার্যদিবস শুনানি নিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছিল সেখানকার একটি আদালত।
গতকাল বেলা ১১টায় রায় পাঠ শুরু হয়। এ সময় আদালতকক্ষ ছিল আইনজীবী, সাংবাদিক, আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং মামলার বাদীপক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে পূর্ণ। রায় শোনানোর জন্য আসামি স্বপ্না খাতুনকে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের রাখা হয় মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই আসামিকে এজলাসের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় প্রধান আসামি সোহেল রানার হাতে হ্যান্ডকড়া এবং মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরানো ছিল।
অন্যদিকে মেয়ে হত্যার রায় শুনতে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী। বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল রায়ের জন্য দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। গত ২ জুন মঙ্গলবার একদিনে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। এরপর বুধ ও বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের শুনানি নিয়ে রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়। যুক্তিতর্কের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডের আরজি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আসামি সোহেলের যাবজ্জীবন এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে লাশ গুম ও আলামত নষ্টের দায়ে দন্ডবিধির ২০১ ধারায় স্বল্প সাজার আরজি জানান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না রামিসাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকে তার পরিবার। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। পাষ- সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে নিয়ে খাটের নিচে রাখে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই কক্ষে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রায় ঘিরে যা হলো : পুরান ঢাকার মহানগর দায়রা আদালত এলাকায় গতকাল ছিল উৎসুক মানুষের ভিড় ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি। এর সঙ্গে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসংখ্য সদস্যের কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই আদালত ভবনের সামনে থেকে সবার নজর মূল সড়কের দিকে ছিল। ঘড়ির কাঁটা তখন ৮টা ২৯ মিনিটের ঘরে। ঠিক তখনি পুলিশের মুহুর্মুহু বাঁশি; মুহূর্তে সবাই ছুটে যান গেটের দিকে। গেটে এসে থামে ‘কাশিমপুর মহিলা কারাগার’ লেখা একটি প্রিজন ভ্যান। প্রিজন ভ্যান থেকে নামানো হয় রামিসা হত্যা মামলার আসামি স্বপ্না বেগমকে। পরনে সালোয়ার কামিজ, মাথায় সাদা হিজাব, পায়ে স্যান্ডেল পরিহিত স্বপ্নার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ ও মাথায় হেলমেট ছিল। আগে থেকে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ সদস্যরা কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে স্বপ্নাকে নিয়ে যান হাজতখানায়। তবে, উৎসুক জনতার আগ্রহ ছিল আসামি সোহেলকে কখন আদালতে আনা হবে।
অপেক্ষার ২০ মিনিট পর ৮টা ৫০ মিনিটে মূল আসামি সোহেল রানাকে নিয়ে গেটের সামনে আসে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রিজন ভ্যানটি। এবারও পুলিশের বাঁশির আওয়াজ পেয়ে প্রিজন ভ্যানের দিকে ছুটে যায় সবাই। গায়ে কালো গেঞ্জি, মুখে মাস্ক, মাথায় হেলমেট আর দুই হাত হ্যান্ডকাফ পরা সোহেলকেও নিয়ে যাওয়া হয় হাজতখানায়। গণমাধ্যমকর্মী, উৎসুক জনতা, আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরা হাজতখানার দিকে উঁকিঝুঁকি মেরে সোহেলকে দেখার চেষ্টা করেন। তবে, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির আশঙ্কায় হাজতখানার সামনে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে কেউ কাছে ভিড়তে পারেননি।
এরই মধ্যে আদালতে হাজির হন খুনের শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। আইনজীবী ও স্বজনরা তাকে নিয়ে যান এজলাস কক্ষে। সেখানে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। সাড়ে ১০টার পরপরই হাজতখানা থেকে দুই আসামিকে নিয়ে যাওয়া হয় ভবনটির পঞ্চম তলায় অবস্থিত ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে। সেখানে নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় দুই আসামিকে। স্বপ্নাকে বসতে দিলেও হেলমেট পরে সোহেলকে দাঁড়িয়েই থাকতে হয়। এজলাস কক্ষের এদিক-সেদিক তাকিয়ে দেখছিলেন সোহেল। নিচের দিক তাকিয়ে নিশ্চুপ বসে থাকেন স্বপ্না। বেলা ১১টার দিকে আদালতে প্রবেশ করেন বিচারক ও আইনজীবীরা। আদালতকক্ষ তখন নীরব। এজলাস কক্ষের বাইরে ও ভবনের নিচে মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে, বিচারকের কণ্ঠে ভেসে আসা ‘মৃত্যুদন্ড’ শব্দের মধ্য দিয়ে।
নির্বাক সোহেল, হেলমেটের বাইরে পৌঁছায়নি আর্তি : রায় ঘোষণার ২২ মিনিট পর সোহেলকে কাঠগড়া থেকে নিচে নামানোর আনার প্রস্তুতি শুরু হয়। এজলাস কক্ষে ও বাইরে অবস্থান নেন অসংখ্য পুলিশ সদস্য। তারা সোহেলকে বেষ্টনী দিয়ে লিফটের সামনে নিয়ে যান। নিচে অপেক্ষমাণ পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানও।
দুপুর ১২টা ১ মিনিটে সোহেলকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। সে সময় উপস্থিত লোকজন ‘খুনি’ ‘খুনি’ স্লোগান তুলেন। আশপাশের দোকানি, সাধারণ মানুষও ছুটে এসে স্লোগানে শামিল হন। সোহেলকে উদ্দেশ করে কেউ কেউ অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন। পুলিশ কিছুটা সামনে এগোতেই কথা বলে সোহেল। তার ঠোঁট নড়ছিল। কিন্তু হেলমেটের কারণে সেই কথা বাইরে পৌঁছায়নি। তার আর্তি হেলমেটের কারণে অব্যক্তই রয়ে গেল। সোহেলকে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে দেয় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রটোকলে প্রিজন ভ্যানটি ছুটে চলে কারাগারের উদ্দেশে। এর সাত মিনিট পর কড়া নিরাপত্তায় এজলাস থেকে নিচে আনা হয় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে। তড়িঘড়ি করে প্রিজনভ্যানে তোলা হয় তাকে। এরপর একজন আসামি নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি রওনা দেয় কাশিমপুর কারাগারের দিকে।
রায়ে সন্তুষ্ট আসামিপক্ষ-রাষ্ট্রপক্ষ উভয়েই : রামিসা হত্যা মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবী উভয়েই সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, ‘সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিল। সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। অপরাধীরা তাদের অপরাধের সাজা পেয়েছে। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট।’ দ্রুততম এই রায় একটি মাইলফলক উল্লেখ করে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মাত্র চার কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে এ রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ হলো শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা। শিশুদের রক্ষা করা। কোনো শিশুর ওপর ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটলে, রাষ্ট্র যদি বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে, মামলাটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
‘ঘাতকদের জন্য বার্তা’ : রায় ঘোষণার পর আদালতপাড়ার আইনজীবী, উপস্থিত লোকজনও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একাধিক আইনজীবী বলেন, তাদের পেশাগত জীবনে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার রায় হতে দেখেননি। এ ধরনের অপরাধ যারা ঘটাচ্ছে, তাদের জন্য এটি একটি বার্তা। কেউ শিশু ধর্ষণ ও হত্যা করতে গেলে নিশ্চয় রামিসা হত্যাকারীর করুণ পরিণতির কথা মনে পড়বে। তাদের দাবি, এরকম অন্য ঘটনাগুলোরও দ্রুত রায় দেওয়া হোক। আসামি সোহেল মাদক সেবন করত, তাই মাদক নির্মূল করা জরুরি। কেননা, মাদক থেকে অপরাধ ও অপরাধীর জন্ম হয়।
আদালতপাড়ায় আসেন কুলসুম বেগম নামের এক নারী। দুই আসামিকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে, এ সংবাদ শুনেই ভালো হইছে, ভালো হইছে বলে চিৎকার দিয়ে ওঠেন তিনি। উল্লাস করতে করতে তিনি বলতে থাকেন, ‘পাপের শাস্তি পাইছো না, আর করবি এরকম।’ পাশ থেকে এক ব্যক্তি বলেন, রামিসার পরও অনেক শিশুর সঙ্গে এমন অন্যায় করা হয়েছে। সেগুলো তো বন্ধ করা যায়নি। বিচার তো পরের কথা, আগে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে রাষ্ট্রকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
আলোচিত মামলার রায় ঘোষণাকে ঘিরে সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, র্যাব, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালতপাড়ায়। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে মহানগর দায়রা আদালত ভবন ঘিরে নিয়োজিত থাকেন তারা। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অন্যান্য সময় আদালত প্রাঙ্গণে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকেন। তবে রামিসা হত্যার রায় ঘিরে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ (৬০ জন) মোতায়েন করা হয়েছে। সবার প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি।
যেভাবে দ্রুততম রায় : গত ২৪ মে সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে এবং ১৭ জনকে সাক্ষী তালিকায় রেখে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মো. অহিদুজ্জামান। গত ১ জুন সোমবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ হয়। এরপর মঙ্গলবার আসামিদের বিরুদ্ধে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিপক্ষে আত্মসমর্পণের শুনানি হয়। এরপর বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়। সে হিসেবে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরুর দিন থেকে মাত্র তিন কার্যদিবসে এ মামলার রায় হলো।
বাগের হাটের মংলায় ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর সাত বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় আবদুল মান্নান সরদারকে (৫৩ বছর)। মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর ১১ অক্টোবর বাগেরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ২ অভিযোগ আমলে নিয়ে ১২ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। এরপর ১৩ ও ১৪ অক্টোবর ১৬ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। ১৫ অক্টোবর আসামির পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। ১৮ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ১৯ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন বিচারক মো. নূর-ই-আলম। অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর পর মাত্র চার কার্যদিবসে বাগেরহাটের মামলাটির রায় হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মার্চে মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশের পর ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য শুনানি শেষে রায় দেয় মাগুরার একটি আদালত। ওই রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদ- হয়। মামলাটি হাইকোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
