অর্থবছর ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে করার প্রস্তাব দিবে জামায়াত

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করার প্রস্তাব দিবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, 'আমাদের ফিসকাল ইয়ার (অর্থবছর) হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস বর্ষা, খরা, দুর্যোগ, সাইক্লোন- এগুলাতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ্য করি, এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসের তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়। এটি হচ্ছে গণলুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। কিছু অসৎ সুবিধাভোগীদের পকেটের সুফল চলে যায়।' 

তিনি আরও বলেছেন, 'আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফিসকাল ইয়ারটি ক্যালেন্ডার ইয়ারের সাথে মিলিয়ে করা হবে। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।'

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে 'জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা' শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের আশঙ্কা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সাংবিধানিক সব জায়গায় নির্লজ্জ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ একেবারেই স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা কর্পোরেশন সবগুলোতে আজ সেই থাবা বিস্তৃত হচ্ছে। সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিভিন্নভাবে প্রমাণিত। এভাবে যদি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উপর রাজনৈতিক অন্যায্য হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে জাতির গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি নিশ্চিত নয়।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা লাগবে। যদি এগুলো না থাকে, তাহলে যে বাজেটই সরকার দিক, ওই বাজেট কার্যকর হবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, সম্পূরক বাজেট বছর শেষ হওয়ার ন্যুনতম তিন মাস আগে সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু সম্পূরক বাজেট পাওয়া যায় শেষ মাসে। এর মাঝে বৈধ, অবৈধ, ন্যায্য, অন্যায্য সব খরচ হয়ে যায়। কালো-সাদা একাকার হয়ে যায়। তারপরে সম্পূরক বাজেট সংসদের সামনে আসলে জনগণের লাভ হয় না।

দেশের কর আদায়ের পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তিনটা কর দেয়। একটা ট্রেজারিতে জমা হয়; একটা যায় কিছু ব্যক্তির পকেটে, যারা কর আদায় করে, আরেকটা যায় চাঁদাবাজদের পকেটে।

তিনি বলেন, 'ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ, যার কারণে ট্রেজারির ট্যাক্সটা তার টার্নওভার ভলিউমের দিক থেকে ছোট হয়ে আসে। এখানে যদি সততা এবং স্বচ্ছতা মেনটেইন করা যায়, অটোমেটিক্যালি ব্যবসায়ীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে আরও বেশি ট্যাক্স দিবেন। 

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অপমানজনকভাবে বিদায়ের পর জনঅভিপ্রায়ের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল। তারাও জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি। বিভিন্ন কথা এখন অনেকে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন, তবে সে সময় যারা সরকারে ছিলেন, অনেকে চুপ করে আছেন। তারা যদি ইনসাফ করতেন আজকের বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। নির্বাচনে জনগণ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে, তবে ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি।  ইতিমধ্যেই আত্মস্বীকৃত বিভিন্ন সাক্ষীও পাওয়া গেছে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে দুটি শপথের জায়গায় একটা শপথ নিয়েছে। তারা আরেকটা শপথ কেন নিলও না তার ব্যাখ্যায় বলেছে, নির্বাচন হওয়ার স্বার্থে তারা জনগণকে অনেক কিছু বলেছেন, আসলে এটা তাদের মনের কথা নয়। যদি রাজনীতিবিদরা এরকমই জনগণকে ধোঁকা দেয়, তাহলে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের উপর জনগণের আস্থা তৈরি হবে কিভাবে- সেই প্রশ্ন রাখেন শফিকুর রহমান। 

অনুষ্ঠানে জামায়াতের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। 

আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।

জামায়াতের দলীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত