ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র!

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৩:০২ এএম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছেন যে চুক্তিটি ইসরায়েল পছন্দ করতেও পারে, আবার নাও করতে পারে। তবে কৌশলগত অবস্থান থেকে মার্কিন প্রশাসন মনে করে, এই চুক্তিটি মূলত আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থ ও সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি মঙ্গলজনক।

ইসরায়েলের সম্ভাব্য আপত্তির বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এসব কথা বলেন। তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে মিত্র দেশ ইসরায়েলের মনস্তাপের চেয়েও নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে বদ্ধপরিকর বর্তমান মার্কিন প্রশাসন।

ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি সম্পাদন করা ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় জাতীয় স্বার্থের বিষয়। সোমবার (৮ জুন) রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রচুর অভিন্ন স্বার্থ থাকলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থের ভিন্নতা বা সংঘাত রয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স উল্লেখ করেন, গত কয়েক মাস এবং বিশেষ করে বিগত দেড় বছরের নানা ঘটনাক্রমের পর এখন এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রশাসন বিশ্বাস করে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সঠিক বলে সমর্থন জানান তিনি।

কমল তেলের দাম : এদিকে ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি খুব শিগগিরই সম্পন্ন হতে পারে-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ইতিবাচক ইঙ্গিতের পর বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেশ খানিকটা কমে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আগামী দুই বা তিন দিনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত আসার পর অপরিশোধিত ক্রুড অয়েলের দাম দুই শতাংশেরও বেশি হ্রাস পায়। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ব্রিফিং ডটকমের বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও’হেয়ার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, বাজার এই ধরনের আশ্বাসের কথা আগেও শুনেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি দৃশ্যমান না হলেও, বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা এই চুক্তির সম্ভাবনাকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন এবং সেই অনুযায়ী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

এই আশাবাদের জের ধরে মার্কিন শেয়ার বাজার খোলার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় প্রধান সূচকগুলোর ব্যাপক উত্থান ঘটে। নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ার সূচক ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৫১,০৭৪.৮৬ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সার্বিক অবস্থা নির্দেশক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকটি ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৪৫৬.৬৯ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের এই ইঙ্গিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত