ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, ৩ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

পাবনা সদর উপজেলায় কিশোরী রিয়া ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন সোমবার একই হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

আগুনের সময় আসামিদের বাড়িতে কেউ ছিল না। নিহতদের সবাই ওই বাড়ির প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা। তারা হলেন, সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (৩৫), পার্শ্ববর্তী নতুন পাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২৮) এবং একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাপু (৪৫)। সবাই পেশায় দিনমজুর ও ঘটনার সময় আগুন নেভাতে ও উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে পাবনার ভাড়ারায় পদ্মা নদী থেকে রিয়া খাতুনের (১৫) বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরের দিন বৃহস্পতিবার পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বিকট শব্দে বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন মানুষ দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানায়, আইনি ঝামেলা এড়াতে অগ্নিকান্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধ ও নিহতরা সবাই প্রতিবেশী, আশপাশের মানুষ এবং মূলত উৎসুক জনতা।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার একজন এবং মঙ্গলবার (গতকাল) দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে রিয়া নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তারা রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত