মধ্যরাতেই সাগরে নামছেন জেলেরা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মধ্যরাতে সাগরে নামবেন পিরোজপুরের সাড়ে ৫ হাজার জেলে। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায়। এদিন মধ্যরাত থেকে আবারও সাগরে মাছ ধরতে রওয়ানা হবেন তারা। এরই মধ্যে ট্রলার, জাল, বরফ ও প্রয়োজনীয় রসদ প্রস্তুত করে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা পার করছেন সমুদ্রগামী জেলেরা।

গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিনের জন্য সাগরে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। প্রতিবছরের মতো এবারও ভারতের সঙ্গে মিল রেখে মাছ ধরার উপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পিরোজপুরের পাড়েরহাট জেলে পল্লী ও মৎস্য বন্দর। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে ছিল শুনশান নীরবতা, সেখানে এখন দেখা মিলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। ট্রলারে জ্বালানি সংগ্রহ, নৌকা মেরামত, বরফ সংগ্রহ, খাদ্যসামগ্রী মজুদ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ত্রুটি সেরে নিচ্ছে জেলে ও ট্রলার মালিকরা। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে জেলেরা পুরনো জাল মেরামত করছেন, আবার অনেকে নতুন জাল তৈরি করছেন। আর তাদের এ কাজে সহায়তা করছেন পরিবারের লোকজন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা ট্রলারে বরফের ব্লক তুলছেন, কেউ জাল গুছিয়ে রাখছেন। আবার কেউ দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার জন্য খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করছেন।

স্থানীয় জেলে আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, ‘মোরা দুই মাস ধরে সাগরে মাছ মারতে না যেতে পারায় পোলা-মাইয়া লইয়া কষ্টে দিন কাটাইছি। এহন সাগরে যেতে পারলে কিছুটা শান্তি লাগবে। আগামী দিন (আজ) মধ্যে রাইতে সাগরে যামু। আশা করছি, ভালো মাছ-পোনা মারতে পারব। এতে করে দায়-দেনা পরিশোধ করতে পারব।’

পিরোজপুর জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি কমল দাস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে ট্রলিং জাহাজ দিয়ে মাছ ধরার কারণে কাক্সিক্ষত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রলিং জাহাজ দ্বারা রেণু পোনা নষ্ট করা হয়। এতে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং সাগরকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।’ তাই তিনি সাগরে ট্রলিং জাহাজ বন্ধের জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরের যাওয়া নিয়ে জেলেদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। মৌসুমি বৈরী আবহাওয়া এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের প্রভাব নিয়ে চিন্তিত তারা। অনেকেই আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, পিরোজপুর জেলায় ৫ হাজার ৩৯৩ জন কার্ডধারী সমুদ্রগামী জেলের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৭৪ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পিরোজপুরের জেলেরা পরিপূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় সাগরে মাছের উৎপাদন ভালো হবে এবং জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত