অজিদের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের হাতছানি

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

টাইগারদের সামনে এবার এক সোনালি ইতিহাস গড়ার হাতছানি। ওয়ানডে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে আজ হারিয়ে প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে অজিদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মানসিকভাবে আকাশে উড়ছে স্বাগতিক শিবির। অন্যদিকে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন ঢাকাতেই সিরিজে টিকে থাকার পথ খুঁজছে।

মঙ্গলবার ২০২২ সালের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২৬তম ওভারে যখন ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল কিছুটা চাপে, তখন ক্রিজে এসে অজি বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘোরালেন তিনি। এক্সট্রা কাভার দিয়ে দর্শনীয় শট, ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে ছক্কা আর রিভার্স সুইপের পসরা সাজিয়ে খেললেন অপরাজিত ৮৬ রানের এক মাস্টারক্লাস ইনিংস। পরে বল হাতেও শিকার করেছেন ২ উইকেট। দীর্ঘ ৭ বছর পর ওয়ানডেতে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া মোসাদ্দেকই এখন মিডল অর্ডারের নতুন ভরসা। তবে আসল রোমাঞ্চটা তুলে রেখেছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তাসকিন ও মুস্তাফিজ শুরুতে ব্রেক-থ্রু এনে দেওয়ার পর মিরপুরের উইকেটে গতির ঝড় তোলেন রানা। লেজের সারির ব্যাটারদের লক্ষ্য করে অনবরত ১৫০ কিলোমিটার গতিতে করা একেকটি বাউন্সার আর তীক্ষè লেংথ ডেলিভারিতে অজি ব্যাটাররা ক্রিজে টিকে থাকার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন। মাত্র ৯ ম্যাচে এই বছরে রানার উইকেট সংখ্যা এখন ৩১, যা ২০২৬ সালে বিশ্ব ক্রিকেটে যেকোনো ফাস্ট বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ। রানার ৪ উইকেটের ওপর ভর করেই মঙ্গলবার ২১ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই বড় জয় পায় বাংলাদেশ।

আজ মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরের মতোই রানবান্ধব থাকবে। প্রথম ম্যাচে ২৮৪ রান করলেও বাংলাদেশ শিবিরের মতে স্কোরটা ৩২০ হওয়া উচিত ছিল। তবে ভক্তদের জন্য কিছুটা মন খারাপের খবর হতে পারে ঢাকার আবহাওয়া, কারণ বৃহস্পতিবার ম্যাচের দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

দলীয় সূত্রের খবর, উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার কোনো ইচ্ছা নেই বাংলাদেশের। ফলে একই একাদশ নিয়ে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে মিরাজের দল। অন্যদিকে, সিরিজে টিকে থাকতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া ডাগআউটে থাকা টড মারফি বা ম্যাথু কুহনেম্যানের মতো স্পিনারদের খেলানোর কথা ভাবতেই পারে। তবে অজি উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির মতে, ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচ হওয়ায় তারা নিজেদের ভুল শুধরে দ্রুত কামব্যাক করার সুযোগ পাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত